শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।
ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার শনাক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুকে আরটিভির লোগো সম্বলিত একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছবির সাথে একটি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে যেখানে বলা হচ্ছে, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম সূত্রটি আবিষ্কার করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’ ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, আরটিভির একটি আসল ফটোকার্ডের শিরোনাম পরিবর্তন করে এই ভুয়া কার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
ফ্যাক্টওয়াচ অনুসন্ধান টিম জানায়, প্রচারিত ফটোকার্ডে তারিখ হিসেবে ‘২৮ এপ্রিল’ উল্লেখ করা হয়েছে। এই তারিখে আরটিভি যে প্রকৃত ফটোকার্ডটি প্রকাশ করেছিল তার বিষয়বস্তু ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রকৃতপক্ষে, গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সেনাবাহিনীর মাঠে থাকা এবং পর্যায়ক্রমে তাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য দেন। এই প্রসঙ্গে আরটিভি আসল ফটোকার্ডটি প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল ‘সদস্যদের সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফেরানোর বিষয়ে যে বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’ ওই অনুষ্ঠানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মন্ত্রী কোনো মন্তব্যই করেননি। এছাড়া সম্পাদিত কার্ডটির ফন্টের সঙ্গে আরটিভির ফন্টের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, আরটিভি ছাড়াও মূলধারার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে এই একই দাবিতে কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, আরটিভির ওয়েবসাইট বা অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও এ ধরনের কোনো কার্ড প্রকাশিত হয়নি। তথ্যপ্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে, ভিন্ন একটি প্রেক্ষাপটের আসল ফটোকার্ডের শিরোনাম এবং তথ্য পরিবর্তন করে এই ভুয়া কার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
ফ্যাক্টওয়াচ অনুসন্ধান টিম, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই ফটোকার্ডগুলোকে বিকৃত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে দেশ বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তীকাল সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল, সরকার গঠনের পর বিএনপিকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়।
দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ সেসব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।