শিরোনাম

ঢাকা, ১৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): পবিত্র রমজানের শেষ সময়ে এসে রাজধানীর ইফতার বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক চকবাজার ও সদরঘাট এলাকার ইফতার বাজারে শেষ মুহূর্তে ইফতার সামগ্রী কিনতে মানুষের ঢল নেমেছে।
বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ সব এলাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে এবং ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে দোকানগুলোর সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, রায়সাহেব বাজার, লক্ষ্মীবাজার, বাংলাবাজার, তাঁতীবাজার, সদরঘাট, ধোলাইখাল ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সারি সারি দোকানে বাহারি রকমের ঐতিহ্যবাহী খাবার সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
এ সব দোকানে ক্রেতাদের চাহিদা সামাল দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা।
চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতার বাজারে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।
এখানে বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, কাবাব, চিকেন রোস্ট, ছানামাঠা, মুরগির ঝাল ফ্রাই, হালিম ও জিলাপি এবং নানা রকমের শরবত, ফালুদা, বোরহানি, খাসির রোস্ট, বাদামের শরবত, দই বড়া, কিমা পরোটা, ঘুগনি, লাবাং ও কোয়েল পাখির রোস্টসহ নানা সামগ্রীতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
অনেকেই পরিবারের জন্য ইফতার কিনছেন, আবার কেউ কেউ বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খাওয়ার জন্য ইফতার কিনছেন।
চকবাজারে ইফতার কিনতে আসেন ব্যবসায়ী রায়হান উদ্দিন।
তিনি বলেন, প্রতিদিন আমি এখান থেকে ইফতার নিয়ে যাই। আমাদের দোকানে পাঁচ জন কর্মচারী আছে। সবারই এখানকার ইফতার খুব পছন্দ। তাছাড়া প্রতিদিন দোকানে দুই থেকে তিনজন কাস্টমার থাকে, তাদের সঙ্গেও আমরা ইফতার করি।
রায়হান আরও বলেন, আমাদের এখানকার সব দোকানদার ও কর্মচারীদেরই এখানকার ইফতার খুব পছন্দ।
ওয়ারির বাসিন্দা মো. বেলায়েত চকবাজারে এসেছেন ইফতার কিনতে।
তিনি বলেন, রমজানের শেষ দিকে এসে পরিবারের জন্য একটু বিশেষ ইফতার নিতে এখানে এসেছি।
বেলায়েত আরও বলেন, চকবাজারের ইফতারের স্বাদ অনেক আলাদা। বিশেষ করে এখানকার কোয়েলের রোস্ট আর জিলাপি আমাদের ভালো লাগে। তাই প্রতি বছরই এখানে থেকে ইফতার নিয়ে আসার চেষ্টা করি।
আরেক ক্রেতা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এখানে খাবারের বৈচিত্র্য অনেক বেশি। যদিও কিছু আইটেমের দাম একটু বেশি মনে হয়। তবুও স্বাদ ও ঐতিহ্যের কারণে মানুষ এখানে আসে।
তিনি বলেন, শেষ সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে এখানে ইফতার কিনতে এসেছি।
সদরঘাট এলাকাতেও ইফতার বাজারে জমে উঠেছে বেচাকেনা। নদীপথে লঞ্চে যাতায়াতকারী যাত্রী, শ্রমজীবী মানুষ ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা এখান থেকে ইফতার কিনে থাকেন। বিভিন্ন দোকানে ভাজাপোড়া ও শরবতের পাশাপাশি ফলের দোকানেও ভিড় লক্ষ করা গেছে।
আব্দুল মতিন নামের এক ক্রেতা বলেন, আমি প্রতিদিন কাজ শেষে এখান থেকে কিছু ইফতার কিনে বাসায় নিয়ে যাই। দাম তুলনামূলক কম ও সহজেই পাওয়া যায় বলে এখান থেকেই কিনি।
সদরঘাট এলাকার বিক্রেতারা জানান, লঞ্চ যাত্রীদের ভীড়ের জন্য রমজানের শেষ সপ্তাহে এসে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। কারণ যাত্রীরা এখান থেকেই ইফতার কিনেন। ফলে বিক্রি বেড়ে যায়।
এখানকার বিক্রেতারা রমজানের শেষ কয়েকদিন বিকেল থেকে শুরু করে ইফতারের আগ পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেন।
চকবাজারের এক ইফতার বিক্রেতা আব্দুল কাদের বাসসকে বলেন, রমজানের শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম থাকে, কিন্তু শেষের দিকে ক্রেতা অনেক বেড়ে যায়। এখন প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে ইফতারের এক ঘণ্টা আগে সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে।
সদরঘাট এলাকার আরেক বিক্রেতা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ইফতারের সময় যত কাছাকাছি আসে, ততই ক্রেতার চাপ বাড়তে থাকে। অনেক সময় সামাল দেওয়াও কঠিন হয়ে যায়। তারপরও আমরা চেষ্টা করি ক্রেতাদের ভালো মানের খাবার দিতে।