শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ১৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। মহানগরের অভিজাত শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান— সবখানেই এখন উপচে পড়া ভিড়। যার যার পছন্দ ও সাধ্যের মধ্যে ঈদের জন্য নতুন জামা, জুতা ও প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারছেন ক্রেতারা।
বিক্রেতারাও ঈদ সামনে রেখে সর্বোচ্চ বিক্রির চেষ্টা করছেন। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কিছুটা প্রভাব বাজারে পড়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, ৭০ লাখ জনসংখ্যার এ মহানগরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজার ও টেরিবাজার।
এর মধ্যে কেবল রিয়াজউদ্দিন বাজারেই আছে ১৫ হাজারের বেশি পাইকারি দোকান। এসব দোকান থেকে চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী জেলার খুচরা দোকানিরা পণ্য সংগ্রহ করেন। এর সঙ্গে নগরের বাসিন্দারাও এসব দোকান থেকে খুচরা পণ্য কেনেন। বর্তমানে এ দু’টি বাজারে ব্যবসায়ীদের দম ফেলার ফুরসত নেই।
ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামের বাজারগুলো থেকে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লার ব্যবসায়ীরা পোশাক এবং অন্যান্য পণ্য কিনে নিয়ে যান। নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও বাজারের আকার ও গতি দেখে কোটি কোটি টাকার বেচাকেনা হয় বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা।
টেরিবাজারে হাজারের বেশি দোকানে দেশি পোশাকের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত শাড়ি, লেহেঙ্গা, গাউন, কসমেটিকসহ প্রায় সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। এছাড়া এ বাজার থানকাপড়ের জন্যও জনপ্রিয়। গত কয়েক দিনে টেরিবাজারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাইকারি ও খুচরা ক্রেতার বিরামহীন ভিড় দেখা গেছে।
টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, ‘সারা বছর বেচাকেনা যা-ই হোক না কেন, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রত্যেক ব্যবসায়ী বিশেষ প্রস্তুতি নেন। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা ছিল। কারণ, চট্টগ্রামে রেমিট্যান্সনির্ভর পরিবারে আর্থিক সংকট থাকলে স্বাভাবিকভাবেই বেচাকেনা কমে যায়।’
শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন শপিং সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাপের কারণে নিউ মার্কেট, চকবাজার, প্রবর্তক, আন্দরকিল্লা, জিইসি মোড়, লালখান বাজার, সানমার সিটি, ষোলশহর, বহদ্দারহাট, সিইপিজেড এলাকা ও আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি অনেকটাই বেড়েছে, যদিও রমজানের ২২ দিন ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। তবে ক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিভিন্ন পণ্যের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, গত বছর রমজানের ১৫ দিনের পর প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৫ হাজার টাকার বিক্রি হতো। কিন্তু, এ বছর তা বেড়ে লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
হকার মার্কেটের সদস্য সচিব জালাল উদ্দিন জানান, সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের উৎসব বোনাস পাওয়ায় কেনাকাটার চাপ বেড়েছে।
আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, এবারের ঈদ বাজারে ভারত ও চীনের পণ্যের প্রভাব কিছুটা কমে গেছে। এর পরিবর্তে পাকিস্তান, তাইওয়ান ও থাইল্যান্ডের তৈরি পোশাক, মেয়েদের থ্রি-পিস, জুতা, প্রসাধনী, শিশুদের পণ্য ও ফ্যাশন সামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে।
ভারতীয় পোশাকের দাম ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ও ভারতীয় শাড়ির চাহিদাও বেশি। সিল্ক, কাতান, টাঙ্গাইল ও ভারতীয় কাঞ্জিলাল শাড়ি ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। বেঙ্গালুরু সিল্ক কাতান ও লেহেঙ্গার দাম ৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন শপিং সেন্টার— যেমন মিমি সুপার মার্কেট, টেরিবাজার, রেয়াজউদ্দিন বাজার, আমিন সেন্টার, সানমার ওশান সিটি, মতি টাওয়ার ও চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্স-এ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিসের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে নিউমার্কেট, রেয়াজউদ্দিন বাজার, জুবিলী রোড, স্টেশন রোড, আন্দরকিল্লা, চকবাজার, ষোলশহর, নাসিরাবাদ, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, লালখান বাজার ও বহদ্দারহাট এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।
উৎসব মৌসুমে ছিনতাই, চুরি, উত্যক্ত করা ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে র্যাব ও পুলিশ সদস্যরাও নিয়মিত টহল জোরদার করেছে।