বাসস
  ১২ মার্চ ২০২৬, ১৫:০৪

বিশ্ব কিডনি দিবসে বিএমইউতে র‌্যালি-সেমিনার, সচেতনতায় গুরুত্বারোপ

ছবি: বাসস

ঢাকা, ১২ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ক্যাম্পাসে কিডনি রোগ নিয়ে সচেতনতামূলক র‌্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ব্লকের সামনে বটতলা থেকে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালির শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেনাল এ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম।

এ সময় সংগঠনটির সদস্য সচিব ডা. মো. ফরহাদ হাসান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমানসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালি শেষে শহীদ ডা. মিল্টন হলে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কিডনি চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত ও শক্তিশালী করা এবং কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি মরণোত্তর কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রম সফল করার আহ্বানও জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, কিডনি রোগ দীর্ঘদিন নীরবে বৃদ্ধি পায়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না পেলে এটি জটিল আকার ধারণ করে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

তারা আরও বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয়ের ব্যয় তুলনামূলকভাবে খুবই কম। একটি সাধারণ প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমেই অনেক ক্ষেত্রে কিডনি রোগ শনাক্ত করা সম্ভব।

বক্তারা জানান, যদি ইউনিয়ন সাব-সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ এবং ডায়াবেটিক কেয়ার সেন্টারগুলোতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে কিডনি রোগ দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রতিরোধ করা অনেক সহজ হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, নীরবঘাতক কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। তিনি ভেজাল খাবার পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যান্য বক্তারা জানান, ২০১৯ সালে প্রকাশিত আটটি গবেষণার ওপর একটি সিস্টেমিক রিভিউ অনুযায়ী বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের হার প্রায় ২২.৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের দেশে এ হিসাবে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং দ্রুত হারে এ সংখ্যা বাড়ছে।

প্রতি বছর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়ে যাচ্ছে এবং নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছেন। বর্তমানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগ অষ্টম স্থানে রয়েছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এটি পঞ্চম স্থানে উঠে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।