বাসস
  ১১ মার্চ ২০২৬, ২১:৩০

কিশোরগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণে জালিয়াতি : সাবেক এলএ কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

ঢাকা, ১১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : কিশোরগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের তদন্ত শেষে ২৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. সেতাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

তদন্তে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় কর্মরত থাকাকালে মো. সেতাফুল ইসলাম প্রচলিত বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্মারক ও তারিখ ব্যবহার করে ভুয়া ‘নগদায়ন এডভাইজ’ প্রস্তুত করেন এবং নিয়মিত পদ্ধতি এড়িয়ে সরাসরি জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রেরণ করেন।

এ ছাড়া তিনি ক্ষতিপূরণ তহবিলের এলএ চেকের মুড়ি ও প্রাপক অংশে ভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি না হওয়া সত্ত্বেও নিজের পরিচিত ও আত্মীয়সহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে চেক ইস্যু করেন। 

অপরাধ গোপন করার উদ্দেশ্যে তিনি দাপ্তরিক বিভিন্ন নথিপত্র অফিসের বাইরে সরিয়ে নিয়ে শ্রেডার মেশিন ব্যবহার করে ধ্বংস করেছেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে এলএ শাখার লেজার ও জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের রেজিস্টারের তথ্যে মোট ৮ কোটি ৯৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬ দশমিক ৪৩ টাকার গরমিল পাওয়া যায়। 

এর মধ্যে সুস্পষ্ট জালিয়াতির মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. সেতাফুল ইসলামকে। 

এ ছাড়া সহযোগী আসামি হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের তৎকালীন অডিটর মো. সৈয়দুজ্জামানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যান্য আসামিরা হলেন—আব্দুল্লাহ আল মামুন, কে এ আল মামুন, মো. কামরুজ্জামান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আনিছুর রহমান, মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন শিমুল, জিলন খাঁন ও আবদুল হামিদ।

দুদক জানায়, আসামি আবুল কালাম ও রায়হান উদ্দিন মৃত্যুবরণ করায় তাদের চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২০/৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭ক/১২০খ/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।