বাসস
  ১১ মার্চ ২০২৬, ২১:২৪

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে : সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া

ছবি : বাসস

ঢাকা, ১১মার্চ, ২০২৬ (বাসস): প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের  সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া বলেছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এখন আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার এবং জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।

আজ বুধবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ৯ম গ্রেড হতে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে এই ইশতেহারের যে অংশটুকু এই মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত রয়েছে তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা এখন আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার নির্বাচনের পূর্বে জনগণের সামনে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এটা যেহেতু জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে সেহেতু এখন এটি আর দলীয় কোন কর্মসূচি নয়। এটি এখন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের ২০ টি বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত রয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের এই নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয় কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেগুলো সেক্টর ভিত্তিক এ মন্ত্রণালয়ের বিভাগ, অনুবিভাগ, শাখা, অধিশাখাগুলোর মধ্যে বিভক্ত করে দেয়া হয়েছে। আর এই ইশতেহারের ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে ইশতেহারের যে অংশটুকু এই মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সেগুলোকে নিয়ে কর্মপরিকল্পনা সহকারে একটা খসড়া তৈরি করা হয়েছে এবং এটা এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী নিকট অতি শীঘ্রই পেশ করা হবে। ইশতিহারের একটি খসড়া ও করণীয় সম্পর্কে  প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেলে এটি চূড়ান্ত করা হবে। এই মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ইশতেহার বাস্তবায়নের চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নিকট উপস্থাপন করা হবে।

সচিব বলেন, এ সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে বিদেশস্থ বাংলাদেশে মিশন সমূহ যেন আরো বেশি তৎপরতা বৃদ্ধি করে সেজন্য তাদেরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে টেলিফোনে, ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বিদেশের বিভিন্ন শ্রমকল্যাণ উইং এর কর্মকর্তাদের সাথে।

প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমাদের কাছে অর্থের চাইতে মানুষের জীবনের মূল্য হচ্ছে সবচেয়ে বেশি, মানুষের জীবনের মূল্য হচ্ছে সবচেয়ে অগ্রগণ্য বিষয়। সুতরাং পরিস্থিতি যেখানে যাই ঘটুক না কেন, যত টাকা-পয়সাই লাগুক না কেন তাদেরকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা, তাদেরকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে, প্রয়োজনে তাদেরকে দেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করা হবে, আর দুর্ভাগ্যবশত যদি কারো মৃত্যু হয় তাহলে সেই লাশ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সে মোতাবেক যেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যক্রম গ্রহণ করেন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিনিয়র সচিব সকলকে এই বার্তা দেন।

সচিব আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য এটাকে সামনে রেখে যেন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন সমূহের শ্রম উইংকে সে ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মিশন সমূহ তাদের সাথে নির্বাচনের ইশতেহারের সংশ্লিষ্ট যে সকল বিষয় রয়েছে বিশেষ করে যে সকল শ্রমিক আনডকুমেন্টেড রয়েছে তাদেরকে ডকুমেন্টেড করা, যারা বিপদাপন্ন আছেন তাদেরকে সহায়তা করা, যে সকল শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে তাদেরকে আইনি সহায়তা দেয়া, যারা বিদেশে চাকরিবিহীন আছেন তাদেরকে চাকরির ব্যবস্থা করা, যারা বিদেশে অসুস্থ রয়েছেন তাদেরকে সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, এবং তাদের মালিকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রবাসী বাংলাদেশীদের যাতে কল্যাণ সাধন করা যায় এ সমস্ত বিষয়সমূহ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে বাস্তবায়ন করার জন্য মিশন প্রধানসহ শ্রম উইং কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সিনিয়র সচিব আরও বলেন, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং এর যে তিনটি দেশে ৩টি কল্যাণ কেন্দ্র (ওয়েলফেয়ার সেন্টার) রয়েছে, তিনটা সেফ হাউস রয়েছে এগুলোকে আরো সক্রিয় করা, সেগুলোকে আরও সেবামূলক করা, যে সমস্ত মিশনে স্থানীয় লোকবলের অভাব রয়েছে সে সমস্ত লোকবল পূরণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরো কিছু লোকবল নিয়োগ দেয়ার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে যে সব দেশে, সেই সব দেশের শ্রম উইং এর সাথে এ মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে বলে তিনি তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

প্রবাসী কল্যাণ সচিব আরও বলেন, ইরান ক্রাইসিস নিয়ে এই মন্ত্রণালয়ের একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচের দেশগুলোতে যখন যে ঘটনা ঘটছে তাৎক্ষণিক এই গ্রুপের মাধ্যমে সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে, আপডেট পাওয়া যাচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কার্যক্রম গ্রহণ করে যাচ্ছে।

এছাড়াও, ওয়েজ আর্নারস ওয়েলফেয়ার বোর্ডের একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে যেখানে কাউন্সিলর এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি, সেকেন্ড সেক্রেটারি যারা বিভিন্ন দেশে আছেন বিশেষ করে শ্রম কল্যাণ উইং যেখানে আছে তারা এই গ্রুপের সদস্য এবং তাদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিশ্বের বিভিন্ন শ্রম উইংগুলো হতে সর্বশেষ আপডেট গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এছাড়া ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের একটি হট লাইন নাম্বার(+৮৮০৯৬১০১০২০৩০) চালু রয়েছে, যেটির মাধ্যমে এদেশে থাকা প্রবাসীদের আত্মীয়-স্বজনদের নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সচিব তার বক্তৃতায় বলেন।

ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মন্ত্রণালয়ের সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিবিড়ভাবে সমন্বয় সাধনের জন্য  দুইজন কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে একজন মহাপরিচালক রয়েছেন এবং এ মন্ত্রণালয় হতে জাপান সেলের কর্মকর্তা যিনি রয়েছেন, তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিদিনই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোথায় কে আহত হচ্ছেন কিংবা নিহত হচ্ছেন তার সর্বশেষ হালনাগাদকৃত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং সে তথ্যগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় মন্ত্রী এবং সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ সচিব বলেন, বিদেশে যে সকল এলাকাতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা আটকে পড়ে আছেন এবং সে সকল আটকে পড়া লোকজনের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করে তাদের কাছে খাদ্য পৌঁছানোর জন্যও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশী যারা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন, বিশেষ করে বাহারাইন থেকে এখন নিয়ে আসা যাচ্ছে না, বাহারাইন হতে বাংলাদেশের ফ্লাইট এখন বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবে নিহত দুইজনের লাশ দ্রুত বাংলাদেশের প্রেরণের জন্য দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে সজাগ রয়েছি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে চালু করা হটলাইন নাম্বার ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। প্রবাসী কল্যাণ ভবনে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে যার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সচিব আরও বলেন, যে সব মিশনে কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে, সেই সব মিশনে কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে এবং ১৭টি পদের বিপরীতে ৬১০ জন আবেদন করেছেন। মিশন সমূহকে শ্রমিক বান্ধবকরণসহ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসকল জনবল নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।