শিরোনাম

ঢাকা, ১১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি আধুনিক ডেনিম পণ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও রোজিন এক্সপোর্টস লিমিটেডের মধ্যে আজ একটি ভূমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বেজার পক্ষে অতিরিক্ত সচিব ও বেজার নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ ও রোজিন এক্সপোর্ট লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শাহিনুজ্জামান লিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের ডেনিম পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে।
এ লক্ষ্যে রোজিন এক্সপোর্টস জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৫ একর জমিতে প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করবে, যেখানে প্রায় ৮০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রোজিন এক্সপোর্টস লিমিটেড নিট গার্মেন্টস পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। জামালপুর জেলায় প্রতিষ্ঠানটির আরও একটি শিল্প কারখানা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার কর্মী বাহিনী রয়েছে।
বেজা’র নির্বাহী সদস্য সালেহ আহমদ বলেন, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ রকম দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ রপ্তানী আয় বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বেজা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে, শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
তিনি বিনিয়োগকারীকে দ্রুত শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য আহ্বান জানান।
রোজিন এক্সপোর্টস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শাহিনুজ্জামান বলেন, বেজা’র সহযোগিতায় জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জামালপুরে ইতোমধ্যে নিট শিল্পে দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে তার প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
উল্লেখ্য, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল ময়মনসিংহ বিভাগের বাস্তবায়নাধীন সর্বপ্রথম সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল। জোনটির প্রস্তাবিত আয়তন প্রায় ৪৩৬ একর।
জোনটির সফল বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩২ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও গার্মেন্টস ছাড়াও বিভিন্ন শিল্প গড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।
এ অঞ্চলে গ্যাস সংযোগ লাইন, ৩৩/১১ কেভিএ বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, প্রশাসনিক ও ডরমেটরি ভবন, ভূমি উন্নয়ন, গ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান শীঘ্রই উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করবে এবং নয়টি শিল্প প্রতিষ্ঠান এ পর্যায়ে নির্মাণাধীন রয়েছে।