শিরোনাম

\ ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন \
নাটোর, ১০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : জেলার গৌরিপুরের নারীদের চোখে মুখে আনন্দ অশ্রু। ৩৭৮টি পরিবারের সদস্যদের আজ আপ্লুত হওয়ার দিন। ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্তির আনন্দ। এই আনন্দ পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে গৌরিপুর স্কুল এন্ড কলেজের মাঠ জুড়ে।
আজ মঙ্গলবার অপরাহ্নে গৌরিপুর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামের হৃতদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত ৩৭৮টি পরিবারের নারীদের অনুকূলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপকারভোগীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
গৌরিপুর মধ্যপাড়ার কেয়া খাতুনের চোখের কোনে আনন্দ অশ্রু। বললেন, বাড়িতে আমার স্বামী প্রতিবন্ধী।
তিন কন্যার পড়াশুনার খরচ চালাতে পারি না। ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়েছি। এখন আর চিন্তা নেই। মেয়েদের পড়াশুনার খরচ চালাতে পারবো, স্বামীর চিকিৎসাও চলবে।
মধ্যপাড়ার সোমা খাতুনের চোখ দু’টোও পানিতে টলমল করছে। বাঁধভাঙা আনন্দ নিয়ে সোমা বলেন, স্বামী প্রতিবন্ধী। বাড়িতে পাঁচ সদস্য। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়াতে ছেলে-মেয়েদের অনিশ্চিত পড়াশুনা নিয়ে এখন আর কোনো চিন্তা নেই। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভালো রাখুক, পুতুল এমপিও ভালো থাকুক।
বৃদ্ধা হাসিনা বেগম বললেন, আমার ছেলে-মেয়ে ছয়টা। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার মত আনন্দ আমার জীবনে কখনো আসেনি। আল্লাহ তারেক রহমানকে অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখুক। আমাদের বিটি পুতুলকে আমাদের খেদমত করার শক্তি দিক আল্লাহ।
নাটোরের গৌরিপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিরর বাস্তবায়ন রোডম্যাপ সাতটি পর্যায়ে সম্পন্ন করা হয়। প্রথম পর্যায়ে কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খানা জরিপের কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর সম্ভাব্য উপকারভোগীদের ডাটা এন্ট্রির কাজও শেষ করা হয়। পরবর্তীতে পিএমটি স্কোরিং করে যাচাই-বাছাই শেষে সরেজমিনে লাইভ ভেরিফিকেশন পরিচালনা করা হয়।
সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (পিএমটি) স্কোরিং ব্যবহার করা হয়। পাইলটিং পর্যায়ে শূণ্য থেকে এক হাজার স্কোরের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ান্টাইলের অন্তর্ভূক্ত অতি দরিদ্র, দরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম এবং পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এই যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই কার্ডটি সরাসরি পরিবারের ‘মা’ বা ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হয়।
নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কর্মসূচির মূল দর্শন ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’।
দেশে প্রচলিত ৯৫টির অধিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ পড়ার মতো ত্রুটিগুলো দূর করে বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য।
এই কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প হচ্ছে-২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড-এ রূপান্তর করা।