বাসস
  ১০ মার্চ ২০২৬, ১৬:৪৯

খুলনায় ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে বয়োবৃদ্ধ নারীদের মুখে হাসি

আজ খুলনা মহানগরীর হাজী শরীয়তুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে মরিয়ম বেগমের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। ছবি: বাসস

\ মুহাম্মদ নূরুজ্জামান \

খুলনা, ১০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজ সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ খুলনায় ১০০০ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়।  

মরিয়ম বেগম। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। খুলনা মহানগরীর খালিশপুরস্থ ১০ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা। তার একমাত্র ছেলে মাসে মাত্র ৬ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে। ঘরে আছে পিতৃহারা এক শিশু। সব মিলে ঘর ভাড়া, সংসার খরচ এবং ওষুধ কিনতে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু এখন সরকারের দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা পাওয়ায় তার মুখে হাসি ফুটেছে। বৃদ্ধ বয়সে এসে এ ধরনের সরকারি সুযোগ পেয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত। তিনি ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কৃতজ্ঞতা জানান। 

আজ খুলনা মহানগরীর ১০ নং ওয়ার্ড এলাকার হাজী শরীয়তুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে মরিয়ম বেগমের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি শান্তির প্রতীক কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

মরিয়মের মতো একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তানজিলা বেগম। তিনিও সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা। চার সদস্যের এ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম তার স্বামী জুটমিলে চাকরি করতেন। ছিলেন মেকানিক। কিন্তু মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার জীবন যাপন করছেন। এ অবস্থায় প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা তার কাছে অনেক বড়ো পাওয়া। তিনি এ টাকা দিয়ে সংসারের খরচের পাশাপাশি ক্লাস ওয়ানে অধ্যয়নরত তার কন্যার লেখাপড়াও চালাতে পারবেন বলে জানান। অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানোয় তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

উপকারভোগী জাকিয়া বেগম বাসসকে জানান, তিনি নিজে বেশ অসুস্থ। ওষুধ কেনার টাকা জোগানই কঠিন। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের সংসার চালানোও অনেক কষ্ট। তাই ফ্যামিলি কার্ডের টাকায় অন্তত প্রতি মাসের ওষুধ কিনতে পারবেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি। 

আজ সকালে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোক্তার আহমেদ। জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল হক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এবং খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক অনিন্দিতা রায়।

জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, বিএনপি যেটা বলে সেটা করে দেখায়। সরকার গঠনের মাত্র ২৩ দিনের ব্যবধানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ তার বাস্তব প্রমাণ।

তিনি বলেন, তারেক রহমান অনেকদিন ধরেই ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি পরিকল্পনা করেছিলেন। সে অনুযায়ী আল্লাহ তাকে সুযোগ দেওয়ায় তিনি তা বাস্তবায়ন করেছেন। খুলনার মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের ১০ নং ওয়ার্ডকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করায় ১০ নং ওয়ার্ডবাসী গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হুইপ বলেন, অতীতের মতো মুখ ও দল দেখে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়নি। সফটওয়্যারের মাধ্যমে নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এমনকি এতে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব বিস্তার করে বিশেষ কাউকে সুবিধা দেওয়া হয়নি। মূলত অতি দরিদ্র, হতদরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ- এ তিনটি ক্যাটাগরিকে প্রাধান্য দিয়ে নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন পাইলট প্রকল্পে অল্পসংখ্যক মানুষকে দেওয়া হলেও, আগামী জুন মাসে নতুন বাজেটের পর পরিপূর্ণভাবে যোগ্য পরিবারই এ কার্ড পাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। এটিই বিএনপির প্রথম সফলতা। যারা সব সময় সমালোচনা করেছেন তাদের মুখে ছাই পড়েছে। বিএনপি শুধু কথা দেয় না, কথা রাখে। এ কার্ড নারীদের স্বাবলম্বী করবে।

তিনি বলেন, আগামীতে যোগ্যতার ভিত্তিতেই যুবকেরা চাকরি পাবে। দেশ ও মানুষের কল্যাণে ভালো মানুষকে দিয়েই রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক অনিন্দিতা রায় জানান, খুলনা মহানগরীর ১০ নং ওয়ার্ডে মোট ৮ হাজার ৭টি খানা জরিপ করা হয়। প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করে, ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং ৪৯ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ৫ হাজার ২৭৫ টি পরিবারের তথ্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। এরমধ্যে চার হাজার ১৫৮ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন। আজ উদ্বোধনী দিনে ১ হাজার নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের হাতে পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এটি মাত্র একটি কার্ড নয়, একটি পরিচিতিও। নারীদের আরও সক্ষম করতেই এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে ৭ জন নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। তারা হলেন; ইসমত আরা, আসিয়া আক্তার, জাকিয়া সুলতানা, ফারজানা বৃষ্টি, মরিয়ম বেগম, তানজিলা খাতুন ও সানজিদা খাতুন।