বাসস
  ০৯ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৯

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে নীতিমালা করছে ইউজিসি

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় প্লেজিয়ারিজম প্রতিরোধে সার্বজনীন অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি। ছবি : বাসস

ঢাকা, ৯ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি (প্লেজিয়ারিজম) প্রতিরোধে সার্বজনীন অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসি’র সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব এ তথ্য জানিয়েছেন।

আজ সোমবার কমিশনের অডিটোরিয়ামে খসড়া অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালার ওপর অংশীজনদের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি’র স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স (এসপিকিউএ) বিভাগের পরিচালক ড. দুর্গা রানী সরকার।

প্রফেসর মাছুমা হাবিব জানান, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিজ নিজ উদ্যোগে অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা প্রণয়ন করেছে এবং আলাদাভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। ইউজিসি’র উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে তা সবার জন্য অভিন্ন নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালা বিশেষ করে নবীন গবেষকদের জন্য সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে সাইটেশন, তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারের নিয়ম এবং গবেষণার নৈতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে গবেষকেরা পরিষ্কার ধারণা পাবেন। 

এতে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধ ও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইউজিসি’র এ সদস্য বলেন, দেরিতে হলেও অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম নীতিমালা প্রণয়নে ইউজিসি কাজ শুরু করেছে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। অংশীজনদের মতামত নীতিমালাটিকে সার্বজনীন ও বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে সহায়তা করবে বলেও মনে করেন তিনি।

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষকদের নীতি-নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রফেসর মাছুমা হাবিব। নৈতিক শিক্ষা নিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়ালে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি কমবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে ড. দুর্গা রানী সরকার বলেন, উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ইউজিসি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এসব মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।

এসপিকিউএ বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহ’র সঞ্চালনায় কর্মশালায় ২১টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি’র পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকসহ ইউজিসি’র জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।