শিরোনাম

ঢাকা, ৭ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার নগর ভবন মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এই উন্মুক্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা সাধারণ নাগরিকরা সিটি কর্পোরেশন সম্পর্কিত নানা সমস্যা সরাসরি ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামের কাছে তুলে ধরেন।
এতে নাগরিকদের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি অনেক বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রায় অর্ধশতাধিক নাগরিক তাদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগের মধ্যে ছিল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অনিয়ম, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা, সড়কবাতির অকার্যকারিতা, অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা, ভাঙা সড়ক ও ফুটপাত সংস্কার, জলাবদ্ধতা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা।
এছাড়া কিছু নাগরিক তাদের এলাকার খেলার মাঠ, পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নাগরিকদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর প্রশাসক সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাখ্যা তলব করেন এবং সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে উপস্থিত নাগরিকরা তাদের অভিযোগ সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সভায় প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যেই ডিএসসিসি প্রতি শনিবার ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’ চালু করেছে, যাতে নাগরিকরা কোনো ধরনের মধ্যস্থতা ছাড়াই সরাসরি এসে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, নগর পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলা শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; এতে নাগরিকদেরও সমান ভূমিকা রয়েছে। ‘নাগরিকরা যদি ৫০ শতাংশ সহযোগিতা করেন; বাকি ৫০ শতাংশ দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন যথাযথভাবে পালন করবে,’ বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রশাসক। এ সময় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত নাগরিকদের ফুল দিয়ে ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’র শুভেচ্ছা জানান এবং নাগরিক সম্পৃক্ততার এই উদ্যোগকে সফল করতে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
উপস্থিত নাগরিকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীকে প্রশাসনের কাছে সরাসরি তাদের সমস্যার কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে। তারা মনে করেন, নিয়মিত এই কার্যক্রম চালু থাকলে প্রশাসনের জবাবদিহিতা যেমন বাড়বে; তেমনি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নগরের নানা সমস্যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।