বাসস
  ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫২
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৮

রাজশাহীর শহীদ মিনারকে দেশের প্রথম শহীদ মিনারের স্বীকৃতির দাবি 

ছবি: বাসস

রাজশাহী, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজের মুসলিম হোস্টেলের পাশে অবস্থিত শহীদ মিনারকে দেশের প্রথম শহীদ মিনার আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন ভাষা সৈনিক মোশারফ হোসেন আকুঞ্জি। শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর রাজশাহী প্রতিনিধি ওমর ফারুককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এ দাবি।

মোশারফ হোসেন আকুঞ্জি বলেন, ঢাকায় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে দাবির জন্য ছাত্ররা আগে থেকেই আন্দোলন করছিল। ২১ ফেব্রুয়ারিও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল। সে সময়ে রাজশাহী থেকে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এরকম এতো ভালো ছিল না। তখন আমরা কাছ থেকে এই খবরটা সঠিকভাবে পাই। যে খবরটা দিল সে বলল যে সর্বনাশ হয়ে গেছে। ঢাকায় গুলি বর্ষণ হয়েছে। অনেক ছাত্র মারা গেছে এবং তারা সংসদ ভবনে মিছিলকে যেতে দেয় নাই। আমরা এই খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর যত ছাত্রবাস ছিল সেই ছাত্রবাসের ছাত্রদেরকে খবর দিই যে আপনারা আসুন এরকম নির্মমভাবে এই মুসলিম লীগ সরকার খুনি সরকার রাষ্ট্রভাষার আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য গুলি করেছে এবং আমাদের ভাইয়েরা আমার ছাত্রীরা তারা নিহত হয়েছে।

এজন্য আমরা কি করতে পারি আসুন রাজশাহী সরকারি কলেজের নিউ হোস্টেলের ভেতরে মিটিং হবে এবং এই খবর পেয়ে সমস্ত ছেলেরা এবং যারা হোস্টেলে থাকতো তারা উপস্থিত হয় অন্তত কয়েকশ’ ছাত্র সেখানে ছিল তার মধ্যে ডাক্তার গাফফার, এসএম আব্দুল গাফফার, এডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু এবং বিখ্যাত একজন নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমদ, এডভোকেট মহসিন প্রামাণিক, লুতফুর রহমান মল্লিক, আব্দুর রাজ্জাক, আমি মোশারফ হোসেন আকুঞ্জিসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

মিটিংয়ে কথা হয় শহীদদেরকে আমরা কিভাবে স্মরণ রাখব? এরপর সিদ্ধান্ত হয় আমরা একটা শহীদ মিনার করব এই সিদ্ধান্তটা সকলেই মেনে নেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের সমস্ত ইট পাটকেল সংগ্রহ করে কাদা মাটির গাথুনি দিয়ে রাত্রি ১২টা পর্যন্ত আমরা এই শহীদ মিনার গড়ে তুলি। 

এরপর অনেক রাতে আমরা বাসায় চলে যাই। পরে শুনতে পাই যে তখন এই মুসলিম লীগের গুন্ডারা এনএসএফসহ শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু করার কিছু ছিল না।  আমাদের নীরব থাকতে হয়েছে আমরা।

তিনি আরো বলেন, রাজশাহী কলেজে অবস্থিত এই শহীদ মিনার ঢাকার শহীদ মিনারের আগে হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি রাত্রিতেই আমরা গড়ে তুলেছিলাম। এজন্য আমরা রাজশাহীর এই শহীদ মিনারকে প্রথম শহীদ মিনার হিসেবে সরকারের কাছে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করছি।

এটা বাস্তব সত্য। এই সত্য বিগত কয়েকটি সরকার গেল কিন্তু আমরা তার স্বীকৃতি পাইনি। এখন যে সরকার এসেছে সেই সরকারের কাছেও আমাদের দাবি এই শহীদ মিনারটিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার হিসেবে যাতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।