বাসস
  ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫২

রাজশাহীর উন্নয়নে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার বিএনপি-জামায়াতের

ছবি : বাসস

রাজশাহী, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬(বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজশাহীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা।

জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে বিএনপি চারটিতে এবং জামায়াতে ইসলামী দু’টি আসনে জয়লাভ করেছে। 

ফলাফল ঘোষণার পর কোনো আসনেই অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অঞ্চলের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

গতকাল শনিবার রাজশাহী মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ সদর আসন থেকে নবনির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্য (এমপি) মিজানুর রহমান মিনুকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, মহানগর সেক্রেটারি এমাজ উদ্দিন মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

রাজশাহী-৩ আসনে নির্বাচনী লড়াই শেষে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। 

জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদারিয়া পাড়ায় নিজ বাসভবনে বিএনপি মনোনীত বিজয়ী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে অভিনন্দন জানান। দুই নেতা মিষ্টিমুখ করেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

নির্বাচন-পরবর্তী এ আচরণকে ওই আসনে রাজনৈতিক সম্প্রীতির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

এ সময় অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নির্বাচনে স্বাভাবিকভাবেই বিজয়ী ও পরাজিত থাকে। তিনি রাজশাহী-৩ আসনের উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে জানান।

অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। মতভেদ থাকলেও জনগণের সেবা করাই আমাদের সবার লক্ষ্য।

এদিকে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ প্রথমবারের মতো রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের পরদিন সকালে তার বাসভবনে বহু মানুষ অভিনন্দন জানাতে যান।

বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক ফুল ও মিষ্টি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। এ সৌজন্যমূলক আচরণ ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

চাঁদ বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমি এই আসনের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এ ঘটনাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।