বাসস
  ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৫

পুরান ঢাকাকে জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট ও মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার ইশরাক হোসেনের

ছবি : বাসস

ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ঢাকা ৬ আসনে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তার নির্বাচনী এলাকা পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট ও মাদক মুক্ত করার অঙ্গীকার করে বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার সকল সমস্যার সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবেন।

আজ সোমবার দুপুরে গেন্ডারিয়ার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরনো রেললাইন এলাকায় জনসংযোগ কালে তিনি একথা বলেন।

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, অতীতের সরকার এ দেশের যুব সমাজকে মাদকে ডুবিয়ে রাখতে চেয়েছিল। সেই সরকারের এক সংসদ সদস্যের নাম ছিল ইয়াবা বদি। সেই বদি সারাদেশ মাদকে সয়লাব করেছিল।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ থেকে মাদক বিতাড়িত করা হবে। সারাদেশের ন্যায় পুরান ঢাকাকেও মাদকমুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, তার বাবা সাদেক হোসেন খোকার স্বপ্ন ছিল পুরান ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা। সেই স্বপ্ন পূরণে পুরান ঢাকাবাসীর কাছে তিনি আজীবন অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবেন।

এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন, মাদকের জন্য পুরান ঢাকার অনেক এলাকায় বসবাস করার অযোগ্য হয়ে গেছে। এর জন্য আমাদের আসনের প্রার্থী কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। 

এ সময় বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, আমার এলাকার কিছু সমস্যার কথা বলবো। এই এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা দেখা যায়। গ্যাসের একটা সংকটতো আছেই। আমি নির্বাচিত হলে আপনাদের এলাকার সকল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাব।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এই এলাকার যে অভিযোগগুলো শুনেছি, সেগুলোর বিষয়ে একটু বলতে চাই। প্রথম কথা মাদকের বিষয়ে এবং মাদক সন্ত্রাস সহ অন্য সকল অনৈতিক অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স দেখাবো।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনাদের ভোটে যদি আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসি- এই মাদক ব্যবসায়ীদেরকে প্রয়োজন হলে আপনাদের সাথে নিয়ে আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেব, জেলখানায় নিক্ষেপ করব।

তিনি বলেন, এই মাদকের মাধ্যমে আজকে আমাদের যুব ও ছাত্র সমাজকে অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদক প্রবেশ করানো হয়েছিল। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে থাকবে ইয়াবা বদি নামে একজনকে সংসদে পর্যন্ত পাঠানো হয়েছিল। সে ছিল মাদকের গডফাদার। এটা করা হয়েছিল বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে। যুব সমাজকে ধ্বংস করার জন্যে।

তিনি বলেন, বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তি আমাদের গ্রাস করেছিল। তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্ডার দিয়ে বাংলাদেশে মাদক ও অস্ত্র প্রবেশ করানো হয়েছে। সেটাকে আমরা পেছনে ফেলে এসেছি, ইনশাআল্লাহ আপনাদেরকে যদি আমি পাশে পাই অবশ্যই মাদক সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রসহ সকল ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড আমরা কঠোরভাবে প্রতিহত করব। 

দ্বিতীয় কথা যেটা বলতে চাই- অবশ্যই এখানে একটা ফুটওভার ব্রিজের প্রয়োজন রয়েছে। আন্ডারপাস অথবা ফুটওভার ব্রিজ অথবা যেকোনো একটা অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে যার মাধ্যমে এই রেল ক্রসিংয়ে আপনারা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন।

তিনি বলেন, আপনারা যদি আমাকে সুযোগ করে দেন ইনশাআল্লাহ কথা দিচ্ছি দ্রুততম সময়ে এটা বাস্তবায়ন করার জন্য আমি পদক্ষেপ নেব। আরেকটা সমস্যা গ্যাসের সমস্যা, তো আমি প্রতিদিনই বলে আসছি। আমি ইতোমধ্যেই এই বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। কয়েকটি এলাকায় আমরা এই সমস্যার কিছুটা সমাধান করতে পেরেছি।

পরবর্তীতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় সব জায়গায় আমার যাওয়া সম্ভব হয়নি। গ্যাস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। দ্রুততম সময়ে গ্যাসের সমস্যা নিরসনের জন্যে কাজ করব। জলাবদ্ধতার সমস্যা সব জায়গায়, এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপতুলতা রয়েছে। এই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সুয়ারেজ ব্যবস্থা এগুলো আমরা দ্রুততম সময়ে সমাধান করবো।