শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা একটি দুর্নীতি-দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চাই। যার জন্য হ্যাঁ ভোট দেব। হ্যাঁ মানে আজাদি।
নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় আজ এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দলটির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মা’ছুমসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতারা।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার সাথে আরো ১০টি প্রতীক যুক্ত হয়েছে। এই প্রতীক যাকে যেখানে দেওয়া হয়েছে, আমরা ধরে নেব যে, এর মধ্যেই দাঁড়িপাল্লা আছে। আপনাদের অনেকের মধ্যে মান-অভিমান আছে। কিন্তু, সকল অভিমান ভুলে ১১ দলের পক্ষে কাজ করে যেতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের চরম নির্যাতিত একটি দল হলো জামায়াতে ইসলামী। যাদের প্রত্যেকটি অফিস বন্ধ করা হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ৫ আগস্ট নতুন দেশ পেলাম, তখন আমরা উল্লাস করিনি। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি।
তিনি বলেন, জামায়াতের প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নেতাদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। অন্য কোনো দলের নেতাদের ক্ষেত্রে এটি হয়নি। দোষটা কী আমাদের? সেই দোষটা হলো— তারা একমাত্র আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছিল। কিন্তু, আমরা চাঁদাবাজি করিনি, অন্যের সম্পদ দখল করিনি। আপনারা সাক্ষী, আমরা মামলা বাণিজ্য করিনি, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও করবো না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ যুবকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, আধিপত্যবাদের পক্ষে অবস্থান নিবেন, নাকি আধিপত্যবাদের বিপক্ষে। যারা বুক ফুলিয়ে অবস্থান নেবে, তাদের পক্ষে অবস্থান নেবেন। মায়েরা, বোনেরা বুঝতে পেরেছেন। তাদের ইজ্জত-সম্পদ কার কাছে নিরাপদ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের প্রার্থীদের অধিকাংশের বয়স ৪৫ বছরের মধ্যে। এটি বার্তা দিচ্ছে, আগামীর বাংলাদেশ যুব সমাজের বাংলাদেশ। যুবকরা, তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাও। আগামীর বাংলাদেশ আমরা তোমাদের হাতে তুলে দেব। তোমরা থাকবে প্লেনের ককপিটে, আমরা প্যাসেঞ্জার সিটে থাকবো। সেই প্লেনকে চালিয়ে জাতিকে এগিয়ে নিবা, জাম্প দিবা, উড়াল দিবা। প্রত্যেকটি যুবক গর্ববোধ করে বলবে, আমিই বাংলাদেশ।
নোয়াখালী অঞ্চলের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার মধ্যে নোয়াখালী বিভাগ, নোয়াখালী শহরকে সিটি কর্পোরেশন করা এবং হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ ও সুবর্ণচরে নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, কোম্পানিগঞ্জের ফেনী নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ, সুনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ ও সুবর্ণচরকে পৌরসভায় উন্নীত করা হবে।
তিনি বলেন, সুবর্ণচরে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ায় এক মাকে নির্যাতন করা হয়েছিল। সেই মায়ের সম্মানে আমরা ওখানে পৌরসভা করে দেব। আপনাদের সব দাবি পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। আপনাদের সব দাবি কবুল করা হলো। আপনাদের সাথে বেইনসাফি করা হবে না।