শিরোনাম

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ‘পলিসি সামিট-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামিটে বিভিন্ন প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সংক্রান্ত নীতিমালা ঘোষণা করা হয়।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে ‘পলিসি সামিট- ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সামিটে ঘোষিত নীতিমালার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, ট্যাক্স ও ভ্যাট বর্তমান হার থেকে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ, এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা সমন্বিত স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু, আগামী তিন বছরে সব শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ বৃদ্ধি না করা, বন্ধ কলকারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালু করে শ্রমিকদের জন্য ১০ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও সহজ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা প্রদান।

শিক্ষা খাতে ঘোষণার মধ্যে রয়েছে গ্রাজুয়েশন শেষে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ে পাঁচ লাখ গ্রাজুয়েটকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদে মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) প্রদান, মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ, প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ প্রদান, যাতে গরিবের মেধাবী সন্তান হার্ভার্ড, এমআইটি, অক্সফোর্ড ও ক্যাম্ব্রিজে পড়ার সুযোগ পায়। এছাড়া ইডেন কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ ও হোম ইকোনোমিক্স কলেজ একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং সকল নিয়োগ মেধাভিত্তিক করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভধারণ থেকে শিশুর বয়স দুই বছর পর্যন্ত মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়।

তরুণদের জন্য ঘোষিত পরিকল্পনায় রয়েছে দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্টের জন্য নতুন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রতিটি উপজেলায় গ্রাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন, প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ জব এক্সেস নিশ্চিত করা, নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে পাঁচ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি, ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা এবং স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু।
আইসিটি খাতে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, আইসিটি সেক্টর থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ, আইসিটি খাতে সরকারের ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় সাশ্রয় এবং শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশি প্রফেশনাল, গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
পলিসি সামিটে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, প্রফেশনালস, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, কসোভো, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, ব্রুনাই, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, ইরান, কানাডা, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল, জাতিসংঘ, ইউএনডিপি ও আইআরআইসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকরা এতে অংশ নেন।

দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মু. তাহের ও মাওলানা আ. ন. ম. শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ.টি.এম. মা'ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডি’র ডিস্টিংগুইসড ফেলো ও প্রথম নির্বাহী পরিচালক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, ইবনে সিনা ট্রাস্টের সদস্য প্রশাসন অধ্যাপক ড. এ কে এম সাদরুল ইসলাম, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাউদ্দিন বাবর, দ্য নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, ডিইউজে’র সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, দৈনিক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দ।
সামিটে ঘোষিত নীতিমালার মাধ্যমে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইসিটি, তরুণ উন্নয়ন ও রেমিট্যান্স খাতে সমন্বিত উন্নয়নের একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরা হয়।