বাসস
  ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:১৫

১১টি কূপ থেকে দৈনিক ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আশা করছে সরকার

ঢাকা, ১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানো প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে ১১টি কূপের অনুসন্ধান ও ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহের জন্য কাজ করছে পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলার মুখপাত্র তরিকুল ইসলাম খান আজ বাসসকে জানিয়েছেন, ‘একযোগে ১১টি কূপের খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে জাতীয় পাইপলাইনে দৈনিক প্রায় ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

পেট্রোবাংলার উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তরিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) তাদের অনুসন্ধান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, সিলেট-১০, সিলেট-১১, রশিদপুর-১১, শ্রীকাইল-৫, হবিগঞ্জ-৫, কৈলাশটিলা-১, বিয়ানীবাজার-২ এবং সেমুতাং-৬ সহ মোট ১১টি কূপে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এছাড়া, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ভোলায় পাঁচটি গ্যাসকূপ খননের জন্য সম্প্রতি ৯০৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা ভোলায় শাহবাজপুর-৫, শাহবাজপুর-৭, ভোলা নর্থ-৩, ভোলা নর্থ-৪ এবং শাহবাজপুর নর্থ ইস্ট-১ কূপ খনন করা হবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পেট্রোবাংলা ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার করে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ২০২৬-২৮ সময়ে আরও ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, বাপেক্স ব্লক-৮ এ জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খননের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে, যা ওই ব্লকে প্রথম বাণিজ্যিক গ্যাস আবিষ্কার।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, জামালপুর কাঠামোতে জলাধার এবং এর সম্প্রসারণ মূল্যায়নের জন্য বাপেক্স আরও দুটি কূপ খননের পরিকল্পনা করছে। একটি অনুসন্ধান কূপ ও একটি উন্নয়ন কূপ। এ লক্ষ্যে বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ চলছে।

এছাড়াও, হরিপুর গ্যাস ক্ষেত্রের অধীনে সিলেট-১০ কূপ খননের সময় হরিপুর কাঠামোতে অপরিশোধিত তেলের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। তেল সংরক্ষণাগারের বাণিজ্যিক কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য সিলেট-১২ তেল কূপ খননের একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি, ভোলার গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে আবিষ্কৃত গ্যাস মজুত ও রিজার্ভার জোনের বিস্তৃতি মূল্যায়নের জন্য বাপেক্স আরও ১৯টি কূপ খনন করবে।

ভোলা থেকে উত্তোলিত গ্যাস প্রস্তাবিত ভোলা শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ করা হবে, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, বাপেক্স চারটি গভীর কূপ খনন করছে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) আওতায় তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে দুটি এবং শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্র ও মোবারকপুর কাঠামোয় আরও দুটি কূপ খননের কার্যক্রম চলছে।

একই সঙ্গে নতুন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র ও খনন যোগ্য কূপের অবস্থান চিহ্নিত করতে বাপেক্স, বিজিএফসিএল ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) নিজ নিজ ব্লকে সিসমিক ডাটা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজিএফসিএল’র আওতায় তিতাস-৩১ গভীর অনুসন্ধান কূপের খনন আগামী জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিদ্যমান কূপে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রেজানুর রহমান এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা আরও বেশি কূপ খনন এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ওয়ার্কওভার কার্যক্রম গ্রহণের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করেছি।’

তিনি বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সরকার ১০০টি কূপ খনন এবং ৩১টি কূপের পুনর্নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে।

ভোলা অঞ্চলে পাঁচটি কূপ খননের জন্য একটি উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের ঠিকাদারদের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাপেক্স।