
ঢাকা, ১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা মহানগরীর বাস সেক্টর সংস্কারে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান।
ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং আধুনিক বাস সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) আয়োজিত “প্রিপেয়ার্ডনেস ফর বাস সেক্টর রিফর্ম অব ঢাকা সিটি” শীর্ষক এক কর্মশালায় এ আহ্বান জানান তিনি।
আজ তেজগাঁওস্থ ডিটিসিএ ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় অতিরিক্ত সচিব বলেন, ঢাকার পরিবহন খাতে বিচ্ছিন্ন কোনো সমাধান নয়, বরং একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামোর মাধ্যমে আমূল সংস্কার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ‘বাস পরিবহন সেবা পরিচালনা ও বিশেষ অধিকার (রুট ফ্র্যাঞ্চাইজ) আইন’-এর খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে, যার লক্ষ্য হলো অপারেটরদের মধ্যকার অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করে যাত্রীসেবার মান বিবেচনায় কোম্পানিভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করা।
এছাড়া, ডিটিসিএ-এর পরিকল্পনার বাইরে পৃথকভাবে কোনো রুট পারমিট অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ডিটিসিএ আয়োজিত এই কর্মশালায় ঢাকায় গণপরিবহনের শৃঙ্খলা আনয়নের মূল চ্যালেঞ্জসমূহ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়ে গ্রুপভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়েছে। যা সংকলন করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে।
চ্যালেঞ্জসমূহ হলো : মহানগরীতে গণপরিবহন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, ব্যবস্থাপনায় ই-টিকিটিং ব্যবস্থাপনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির প্রয়োগ, টেকসই, শৃঙ্খলাপূর্ণ গণপরিবহনের লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা সমূহের ভূমিকা ও আইনি কাঠামো।
ডিটিসিএ-এর নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর রুটে চলাচলকারী বাসের একটি বড় অংশের ফিটনেস সনদ নেই এবং অনেক বাস রুট পারমিট ছাড়াই চলাচল করছে। এই বিশৃঙ্খলা নিরসনে ডিটিসিএ ৯টি ক্লাস্টার এবং ৪২টি রুটের মাধ্যমে ২২টি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার প্রস্তাবনা প্রস্তুত করেছিল। এর প্রেক্ষিতে, ইতোমধ্যে ডিটিসিএ, ডিএমপি, বাস পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসমূহ প্রাথমিকভাবে ৩২টি রুটের বিষয়ে একমত পোষণ করেছে এবং সে তালিকাটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের
বিভাগীয় প্রধান ড. আসিফ-উজ-জামান খান। কর্মশালায় সরকারি দপ্তর বা সংস্থাসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ, ডিটিসিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ ও আর্থিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিবর্গ এবং বাস পরিচালনাকারী, আমদানিকারক ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।