শিরোনাম

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): তরুণ ও নতুনদের নিয়ে গঠিত বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করতে এবং আইনপ্রণেতাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা জোরদার করবে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সফররত আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করতে আইপিইউ এ দেশের সঙ্গে কাজ করবে এবং তাদের সহযোগিতা বাড়াবে।’
তিনি আরো জানান, আইপিইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য এবং নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সংসদকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে আইপিইউ। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ ও প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের অনেকেই প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন এবং তারা তুলনামূলকভাবে তরুণ। সংসদে তরুণদের প্রতিনিধিত্বও বেশি। তারা বিষয়টিকে খুবই ইতিবাচকভাবে দেখছেন।’
শামা ওবায়েদ জানান, আইপিইউ মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশি আইনপ্রণেতাদের দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে অন্যান্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
জেনেভায় আয়োজিত প্রশিক্ষণসহ আইপিইউ-এর বিভিন্ন সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত কর্মসূচিতে বাংলাদেশি সংসদ সদস্যদের আরো বেশি অংশগ্রহণে বাংলাদেশ আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে উভয় পক্ষ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শান্তি ও স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), নারী ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছে। এসব বিষয়কে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন শামা।
তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমি আইপিইউ-এর সঙ্গে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছি।’
আগামী মাসে তানজানিয়ায় আইপিইউ-এর একটি সম্মেলন হতে যাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের স্পিকার এবং সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।
রোববার রাতে ঢাকায় পৌঁছান ফিলিপ। ২ সেপ্টেম্বর তার বাংলাদেশ ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
সফরকালে আইপিইউ মহাসচিব বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ পরিদর্শন করেন এবং সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পারস্পরিক মতবিনিময় করেন।
এছাড়া তিনি শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং এর পেছনের ঘটনাবলি সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মৃতিচিহ্ন ঘুরে দেখেন।