শিরোনাম

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশি নাবিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে ভিসা, ট্রানজিট ও ক্রু চেঞ্জ-সংক্রান্ত বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে বাংলাদেশি নাবিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং তাদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে।
আজ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় মেরিটাইম কাউন্সিলের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং মেরিটাইম শিল্প খাতের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বাংলাদেশি নাবিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে ট্রানজিট ভিসা, ক্রু চেঞ্জ ভিসা, শোর পাস এবং এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্স পেতে বিদ্যমান জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাবিক সরবরাহকারী দেশ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এসব জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজে নিয়োগ, ক্রু রিলিফ এবং কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এর ফলে বাংলাদেশি নাবিকদের চাকরির বাজার সংকুচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ থেকেও দেশ বঞ্চিত হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি নাবিকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার এবং আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় ২০২৮ সালের আইএমও মেম্বার স্টেট অডিট স্কিম (আইএমএসএএস)-এর প্রস্তুতি, ২০১৭ সালের অডিটে চিহ্নিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির অগ্রগতি এবং একটি সমন্বিত জাতীয় প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
এছাড়া হংকং কনভেনশন বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা, ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি (টিএসডিএফ) স্থাপনের রোডম্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর নেট-জিরো ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাহাজের জ্বালানি ব্যবহারসংক্রান্ত জাতীয় তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠা, কার্বন নির্গমন বেইজলাইন প্রণয়ন এবং বাঙ্কার ফুয়েল মনিটরিং ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরে বিপজ্জনক পণ্য পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, আইএমডিজি কোড বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে ডেঞ্জারাস গুডস ভ্যালিডেশন মডিউল’ সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় দেশের সামুদ্রিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল মেরিটাইম পলিসি’ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ নীতিমালার মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়ন, ব্লু ইকোনমির বিকাশ, বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, নাবিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং সামুদ্রিক খাতের টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।