শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে আজ শেষ দুটি ইভেন্ট ছিল ছেলে ও মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। আর্মি স্টেডিয়ামের সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে অনুষ্ঠিত হলো দুই জনপ্রিয় ইভেন্ট।
মেয়েদের ১০০ মিটার শুরুর আগে মাঠে চলছিল মেয়েদের ফুটবলের ফাইনাল। কাচ ঘেরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষে ছিল প্রধানমন্ত্রীর বসার জন্য নির্ধারিত স্থান। তবে সেই কক্ষ থেকে হঠাৎ বের হয়ে ট্র্যাকের পাশে চলে আসেন তারেক রহমান। মেয়েদের ফুটবল শেষে দুটি স্প্রিন্ট সামনে থেকে উপভোগ করতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সামনে দিয়ে কিশোর-কিশোরীদের সেরার লড়াইয়ে ছুটে চলা দারুণ উপভোগ করলেন তিনি, পরে কাছে ডেকে বাহবা জানালেন দুই ইভেন্টের দুই সেরা মারিয়া ও জাকির হোসেনকে।
আগের দিন, হিটে সেরা টাইমিং করেছিলেন দুজনই। ফাইনালেও সেরা হওয়ার লড়াইয়ে তারাই ছিল ফেভারিট। হয়েছেও তাই। ঢাকার মারিয়া সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। হিটে সেরা হয়েছিলেন ১৩.৮২ সেকেন্ডে। ফাইনাল জিতলেন টাইমিংয়ে উন্নতি করে, ১৩.৭৫ সেকেন্ডে। তাকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে সিলেটের তিশা আক্তার ও খুলনার অধরা ঐশী। তিশা দ্বিতীয় হন ১৪.২৫ সেকেন্ডে স্প্রিন্ট শেষ করে। আর ঐশী তৃতীয় হতে সময় নেন ১৪.৬২ সেকেন্ড।
প্রধানমন্ত্রীর সামনে দৌড়ে সেরা হওয়ার অনুভূতিটা অন্যরকম মাবিয়ার জন্য। জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী কাছে ডেকে নিয়ে প্রশংসা করেছেন তার, ‘অনেক ভালো লাগছে। আমি কখনো ভাবিনি এভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ পাবো। তার সামনে দৌড়ে সেরা হতে পেরে অনেক খুশি লাগছে।’
ঢাকা অঞ্চলের হয়ে খেলা মারিয়া মূলত কিশোরগঞ্জ থেকে উঠে এসেছে। নিজেকে একজন সেরা স্প্রিন্টার হিসেবে গড়ে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করেন মারিয়া। এই সাফল্য তাকে সামনে বড় অ্যাথলেট হয়ে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করবে, ‘আমার স্বপ্ন একজন বড় অ্যাথলেট হওয়া, দেশের জন্য, আমার বাবা-মা’র জন্য কিছু করা। একদিন এশিয়ান গেমস, অলিম্পিক গেমসের ট্র্যাকে দোঁড়ানোর স্বপ্ন দেখি। দিনমজুর বাবার হাতে সেরা পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মারিয়া।
তার সফল হওয়ার পরপরই শুরু হয় ছেলেদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। এই ইভেন্টে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছে খুলনার জাকির হোসেন। আগের দিন জাতীয় স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে ১১.৫০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে হিটে সেরা হয়েছিলেন। এবার ফাইনালে নিজের টাইমিং আরও উন্নতি করেছেন। ১১.১৫ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেই অন্যরকম উদযাপনে মেতে ওঠেন জাকির। প্রথমেই সিজদাহ দিয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, এরপর ছুটে যান নিজ দলের সতীর্থ ও কোচদের কাছে।
এই ইভেন্টে জাকিরকে কোনো চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেননি বাকী সাতজন। রংপুরের জিয়াদ হাসান ১১.২০ সেকেন্ড নিয়ে দ্বিতীয় ও রাজশাহীর সুমন শেখ ১১.৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হন তৃতীয়।