বাসস
  ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৭
আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১২

‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপে কমছে ভোগান্তি

ওবাইদুর রহমান

ঢাকা, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ মোবাইল অ্যাপ চালুর ফলে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলের জ্বালানি সংগ্রহে ভোগান্তি কমছে। দীর্ঘ লাইনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে সরকার এই অ্যাপ চালু করেছে। বৈধ কাগজপত্র দিয়ে নিবন্ধনের মাধ্যমে মোটরসাইকেল চালকরা নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছেন। 

আজ সোমবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, পাম্পগুলোতে তেল নেওয়ার জন্য অন্যান্য দিনের তুলনায় লাইন কম। লাইনে যারা আছেন, তাদের মাঝেও চিন্তার ছাপ নেই। 

এ বিষয়ে বাইকার ও পাম্প মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তেল নেওয়ার জন্য অ্যাপ চালু করার কারণে পাম্পে লাইন কমে গেছে। কারণ নিবন্ধন করলে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে অনায়াসে ৪-৫ দিন চলা যায়। লাইনে অনিবন্ধিত বাইক অনেকটা কমে গেছে। ফলে রেজিস্ট্রেশনকৃত বাইকগুলো এখন সহজেই আগের তুলনায় কম সময়ে তেল নিতে পারছে। এতে রাইড শেয়ার চালকদেরও ভোগান্তি কমেছে। 

এছাড়া আজ থেকে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় এই সময়ের জন্য অকটেন ২০ শতাংশ এবং পেট্রোল ও ডিজেল ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

রাজধানীর আসাদ গেটে সোনার বাংলা পেট্রোল পাম্পে কথা হয় বেসরকারি চাকুরিজীবী মেহেদি হাসানের সঙ্গে। তিনি জানান, তার বৈধ কাগজ থাকায় ফুয়েল পাস অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করতে পেরেছেন। আগে ৪-৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এখন ঘণ্টা খানিকের মধ্যে তেল পাওয়া যাচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাইকে প্রতিদিন দরকার হয় ১-২ লিটার অকটেন। ৩ দিন আগে তেল নিয়েছিলাম। আজকে আবার নিয়েছি। ফলে আগামী ৩-৪ দিন আর নেওয়া লাগবে না।’

রাইড শেয়ার চালক সোহেল রানা জানান, ‘ফুয়েল পাসের ফলে তেল নিতে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি দুটোই কমেছে। আগে কোন পাম্পে যাব, আবার তেল পাব কি না- তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম। কিন্তু এখন রেজিস্ট্রেশনের কারণে নির্দিষ্ট পাম্পে যাচ্ছি। আর তেলের লাইনও কমে গেছে। যে লাইন হয়, তেল দেওয়া শুরু করলে তা দ্রুতই শেষ হয়ে যায়।’

শাহবাগে অবস্থিত মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারে হাসান রাব্বি নামে একজন রাইড শেয়ার বাইক চালক জানান, রেজিস্ট্রেশনের কারণে ১২০০ টাকার তেল নিতে পারছি। আমার দৈনিক ৫০০-৬০০ টাকার তেল হলেই হয়। ফলে আগামী ২ দিন আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না। আর লাইনে অন্যান্য সময়ের চেয়ে চাপ কম।

মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের সহকারী ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আহমদ রুশদ জানান, আমাদের এই পাম্পটি শাহবাগ সংলগ্ন হওয়ায় তুলনামূলক চাপ বেশি। তবে ফুয়েল পাস অ্যাপ চালু হওয়ায় এই চাপ আগের চেয়ে অনেকটা কমে গেছে। এখানে অ্যাপের বাহিরেও তেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে একটু সিরিয়াল আছে। শুধু অ্যাপভিত্তিক তেল দেওয়া গেলে এই সিরিয়াল একদমই থাকবে না।

তিনি আরও জানান, অ্যাপে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছে, তাদের ১২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। আর অ্যাপ ছাড়া ৫০০ টাকার। সরকার নির্দেশ দিলে এখানে শুধু অ্যাপ-ভিত্তিক তেল দেওয়া হবে।

মতিঝিলের একটি পাম্প মালিক জানান, তাদের পাম্পে আজ থেকে ফুয়েল পাস চালু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনের কাজ চলছে। পাশাপাশি তেলও দেওয়া শুরু হয়েছে। অ্যাপ চালুর ফলে বাইক চালকদের চাপ কমেছে। আমরাও একটু স্বস্তি পাচ্ছি। আগে দীর্ঘ লাইনের কারণে আমাদের ওপর চাপ বাড়ত। এখন লাইন থাকলেও অ্যাপের কারণে লাইন দ্রুত শেষ হয়। ফলে আমাদেরও ভোগান্তি কমেছে। 

রাজধানীতে ১৮টি পাম্পে চালু হওয়া এই সেবা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে পাম্প মালিক ও মোটরসাইকেল চালকরা। তাদের দাবি রাজধানীর সব পাম্পগুলোতে এই সেবা চালু করতে পারলে ভোগান্তি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। 

গত ৯ এপ্রিল কিউআর কোডভিত্তিক এই সেবা চালু করেছে সরকার। ‘ফুয়েল পাস’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের (অ্যাপ) মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। শুরুতে ঢাকার দুটি ফুয়েল স্টেশনে মোটরসাইকেলের জ্বালানির গ্রাহকদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। পরে ঢাকার আরও ৫টি পাম্পে তা বর্ধিত করা হয়। গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর আরও ১১ পাম্পে ফুয়েল পাসের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। একই সাথে দেশের আরও ৮ জেলায় তা বাড়ানো হয়।

প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের জন্য উন্মুক্ত এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলগুলো জ্বালানি নিতে পারছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফুয়েল পাস অ্যাপ শুধু পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ফুয়েল পাসে ১ লাখ মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। এখন ঢাকার বাহিরেও তা বাড়ানো হয়েছে। ফলে রেজিস্ট্রেশন আরও বাড়বে। এই কার্যক্রম ধীরে ধীরে অন্যান্য পরিবহনের জন্যও চালু কথা ভাবছে সরকার।