বাসস
  ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩২

শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সিলেটের জন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় চাইলেন শ্রমমন্ত্রী

আজ সিলেটে মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় কথা বলেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: পিআইডি

সিলেট, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জেলার শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের কাছে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

আজ জেলার মেন্দিবাগস্থ জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড অডিটোরিয়ামে সিলেট অঞ্চলের মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ দাবি জানান।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং  বিশেষ অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও কয়ছর আহমদ, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া মো. নূরুল হক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সিলেটে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে দূরদর্শী পরিকল্পনা করেছিলেন, বিগত সরকারের অবহেলার কারণে তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

এই অঞ্চলের অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে স্বাবলম্বী করতে দ্রুত সিলেটে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে অপরাজনীতি মুক্ত রেখে এর সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রদানের অনুরোধ জানান।

তিনি আরো বলেন, জেলায় বর্তমানে ৮৫০টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার স্কুলগুলোতে ভবন ও শিক্ষক সংকট চরমে পৌঁছেছে। ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সবকটি পদই শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও নতুন ভবন নির্মাণের তাগিদ দেন তিনি।

এছাড়া তিনি কোম্পানীগঞ্জের এম. সাইফুর রহমান কলেজকে সরকারি এবং আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসার উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ জানান।

কওমি মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের বিষয়েও তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী সিলেটের শিক্ষা বিস্তারে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে বিদ্যমান সংকট নিরসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।