শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) উৎপাদন ধীরগতির হলেও জ্বালানি তেল সরবরাহে এর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ইআরএল লো-ফিডে পরিচালিত হলেও তেলের সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কারণ বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে।’
মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখতে ইআরএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে ইআরএলের মোট চারটি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিট ডেড স্টক ব্যবহার করে চালু রয়েছে, অপর দুটি ইউনিট বিকল্প উৎস থেকে ক্রুড অয়েল প্রাপ্তির পর পুনরায় চালু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করেছে। ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
জ্বালানি বিভাগ আরও জানায়, ক্রুড অয়েলের ঘাটতির কারণে ইআরএলের উৎপাদন কিছুটা কমলেও জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। বর্তমানে দেশে ২ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি পরিশোধিত জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র আরও জানান, সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে বহুমুখী আমদানি ও পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী মে মাসের শুরুতে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা ইআরএলের পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকায় মার্চ ও এপ্রিল মাসে নির্ধারিত ২ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি সম্ভব হয়নি।
মার্চে সৌদি আরব থেকে আসার কথা থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বর্তমানে রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে জাহাজটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারেনি।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মার্চ মাসে নির্ধারিত চালান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত রয়েছে।
তবে ১ লাখ মেট্রিক টন বহনকারী একটি এরাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল কার্গো আগামী ২০ এপ্রিল লোডিং সম্পন্ন করে বিকল্প রুট ব্যবহার করে ২৩ মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার সৌদি আরবকে মে মাসে অতিরিক্ত ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।
এছাড়া জরুরি চাহিদা মেটাতে মন্ত্রিসভার অনুমোদনক্রমে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির কার্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
মনির হোসেন চৌধুরী আরও জানান, ইআরএল বছরে প্রায় দেড় মিলিয়ন মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০ এপ্রিলের মধ্যে পরবর্তী চালান রওনা হয়ে এপ্রিলের শেষ বা মে মাসের শুরুতে বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
তিনি আরও বলেন, ইআরএল সাময়িকভাবে সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হলেও পর্যাপ্ত পরিশোধিত জ্বালানি মজুদ থাকায় জাতীয় জ্বালানি সরবরাহে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।
এদিকে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ২ লাখ মেট্রিক টন তেল বহনকারী দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে ঘাটে নোঙর করেছে। যা জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখবে।