বাসস
  ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৫

পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে নীতি সহায়তার আহ্বান বিজিএমইএ’র

আজ সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। ছবি: বিজিএমইএ

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারের নীতি সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

আজ সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আহ্বান জানায়।

বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং খাতটির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে পোশাক শিল্পের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও কার্যকর নীতি সহায়তা জরুরি।

বৈঠকে আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি)-এর কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি জানান, আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা (ওএসএইচ) তদারকির জন্য গঠিত। বেতন, ছুটি বা ট্রেড ইউনিয়নের মতো সামাজিক কমপ্লায়েন্স বিষয়গুলো এর আওতার বাইরে থাকা উচিত। এ ধরনের দায়িত্ব আরএসসির ওপর আরোপ করলে শিল্পে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ তৈরি হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি স্পষ্ট করে বলেন যে, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই মালিকপক্ষ ও স্থানীয় আইনের সাথে সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজিএমইএ নেতারা শিল্পের টেকসই অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে: আমদানি ও বন্ড নীতি সহজীকরণ, এফওসি ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা, বন্ডেড ও নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পণ্য সরবরাহে বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ দ্রুত সংশোধন।

এছাড়া, রপ্তানি প্রণোদনার ওপর ১০ শতাংশ আয়কর কর্তন প্রত্যাহার, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি ও পণ্য রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানানো হয়।

বিজিএমইএ আরও প্রস্তাব করে, তৈরি পোশাক রপ্তানি বাণিজ্য সহজীকরণে ‘আমদানি নীতি ২০২৪-২০২৭’-এর সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের সিআইপি মর্যাদা নির্ধারণ প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিজিএমইএ’র উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পোশাক শিল্পের সংকট নিরসন ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদান করবে।

বৈঠকে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালক মো. হাসিব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।