শিরোনাম

ঢাকা, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি-একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদ, যিনি শিল্পখাত ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
তার নেতৃত্বগুণ এবং ব্যবসা ও শিল্পখাতে দক্ষতার কারণে তিনি দেশে একজন সম্মানিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আজ এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা মরহুম খন্দকার আব্দুল মালিক সিলেটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন সময়ে শিল্প বিষয়ক সম্পাদক, উপদেষ্টা ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খন্দকার আব্দুল মালিক তৎকালীন সিলেট-৮ (বর্তমান সিলেট-১) আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর মাতা রওশন আরা চৌধুরী।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা সিটি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার অব সোশ্যাল সায়েন্স ডিগ্রী লাভ করেন। এছাড়াও তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সিলেট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রীসভায় তিনি বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন।
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের ব্যবসা ও শিল্প খাতে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। তিনি বস্ত্র উৎপাদন এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতে কৌশলগত কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেছেন। রপ্তানিমুখী শিল্পে তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা শিল্প প্রতিযোগিতা, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি বিষয়ে তাঁর নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গিকে সমৃদ্ধ করেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তার প্রগতিশীল মূল্যবোধ ও নীতিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তিনি অধিক পরিচিত।
তিনি বাণিজ্য ও শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং তুরস্ক-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটের শেখ মঈনুদ্দিন মহিলা কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের পিতা। বই পড়া ও সাঁতার কাটা তাঁর শখ।