শিরোনাম

রাজশাহী, ৩১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শন ও চিকিৎসার সার্বিক বিষয় খোঁজ খবন নেন স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
এর আগে সকালে রামেক হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সচিব ও মহাপরিচালক। এরপর রামেক হাসপাতালের সার্বিক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সচিব মো. কামরুজ্জামান।
স্বাস্থ্যসচিব সাংবাদিকদের জানান, রামেক হাসপাতালের জন্য আপাতত ঢাকা থেকে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় সাতটি ভেন্টিলেটর আনা হয়েছে। এগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত নয়, এমন শিশুদের আইসিইউ প্রয়োজন হলে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে পাঠানোরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানেও আইসিইউ সাপোর্ট পাওয়া যাবে।
আগামী তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহীর শিশু হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ যে সমস্ত হাসপাতালের অবকাঠামো আছে সেগুলো সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। প্রথমে আউটডোর সেবা শুরু হবে এবং আগামী অর্থবছরে অন্যান্য সেবা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে।
টিকা কিনতে ৬০৪ কোটি টাকা সরকারের পক্ষ থেকে ইউনিসেফকে পরিশোধ করা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, দ্রুতই টিকা পাওয়া যাবে। টিকার ডোজ পাওয়ার পর টিকা দান কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়াও বিগত সময়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের আন্দোলনের কারণে হামের টিকা পায়নি শিশুরা। মায়েরা হয়ত যখন গেছে টিকা দিতে তখন স্বাস্থ্যকর্মীদের পায়নি।
শিশুদের মৃত্যু নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে করে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘রাজশাহীতে আমাদের সন্তানরা, আমাদের বাচ্চারা, আপনারা যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেই মৃত্যুর জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। কোনো মৃত্যুই কারও জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। এখানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।
তিনি আরও বলেন, সরকারের একটি জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতি আছে, যেই স্বাস্থ্যনীতির ভিত্তিতে সরকার তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। আমরা আপনাদের সবাইকে নিয়ে সরকারের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।
মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাম মোকাবেলায় ইতোমধ্যে একটি বিশেষ টিম রাজশাহীতে এসেছে। তারা এগুলো পরীক্ষা করছেন। আমাদের জাতীয় টিকা কর্মসূচি প্রণয়নের একটি টেকনিক্যাল কমিটি আছে। আমরা কমিটিকে অনুরোধ করেছি তারা যেন একটি টেকনিক্যাল প্ল্যান তৈরি করে দেয়। তারা অলরেডি তাদের পরিকল্পনা তৈরি করেছে। আমরা এটি নিয়ে সচিবালয়ে বসব। আপনারা জানেন আইডিসিআর (IEDCR) নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। আমরা তাদেরকে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করতে বলেছি।
তিনি বলেন, আমাদের সব কিছু রেডি আছে। টিকা পেয়ে গেলে আমরা পিপিআই কর্মসূচি এবং টিকাদান কর্মসূচি ব্যাপকভাবে শুরু করব। হার্ট ফাউন্ডেশনের একটি হাসপাতাল আছে, আমরা ওনাদের অনুরোধ করেছি যেন ওনাদের এনআইসিইউ (NICU) ও আইসোলেশন ওয়ার্ড আমাদের ব্যবহার করতে দেয়।
সরকার এই সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সাড়া দিয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো জনগণের প্রাইমারি হেলথকেয়ার নিশ্চিত করার জন্য আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করব। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থা আমাদের সাতটি ভেন্টিলেটর দিয়েছে, যেগুলো আমরা এখানে নিয়ে এসেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিয়ে যাব। এতে সংকট কিছুটা লাঘব হবে।
রামেক হাসপাতাল প্রসঙ্গে কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এই মেডিকেলের (রামেক) অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি আছে। আগামী ৪ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আমার মিটিং আছে, সেখানে বিষয়টি উপস্থাপন করলে আশা করি ঘাটতি পূরণ হবে।