বাসস
  ২২ মার্চ ২০২৬, ২০:২২

রংপুরের বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সব বয়সের মানুষের ভিড়

ছবি : বাসস

মো. মামুন ইসলাম

রংপুর, ২২ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ঈদুল ফিতরের দিন (শনিবার) দুপুর থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের ছুটি উপভোগ করতে রংপুরের বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সব বয়সের হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমছে।

রঙিন পোশাকে সজ্জিত উৎসাহী মানুষ, বিশেষ করে যুগল, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা ঈদের পর আজ দ্বিতীয় দিনেও উৎসবের আমেজ বজায় রেখে জেলা জুড়ে এই স্থানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন।

রংপুর মহানগরে বিনোদনের জন্য রংপুর চিড়িয়াখানা শিশু উদ্যান, ‘সুরভী উদ্যান’, টাউন হল চত্বর, চিকলী লেক ওয়াটার পার্ক, ‘প্রয়াস’ এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক, ফ্যান্টাসি জোন, ‘তাজহাট জমিদার বাড়ি’, ‘রূপকথা থিম পার্ক’, জেলা স্কুল মাঠ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।

এছাড়া, জেলার গঞ্জিপুরের ভিন্নজগত বিনোদন কেন্দ্র, পীরগঞ্জের আনন্দনগর পার্ক, বদরগঞ্জের মায়া ভুবন, কাউনিয়ার তিস্তা পার্ক, পীরগাছা উপজেলার ‘নীলাম্বরের জলমহল’, আলি বাবা থিম পার্ক ও তাজ ইকোভেঞ্চার, গঙ্গাছড়া উপজেলার মহিপুর ঘাট ও তিস্তা সেতু এবং তিস্তা ব্যারেজ খালে শত শত দর্শনার্থীর সমাগমে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

চমৎকার আবহাওয়া ও প্রশংসনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আরও বেশি দর্শনার্থী আকর্ষণের লক্ষ্যে এই সমস্ত পর্যটন কেন্দ্র, বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদের স্থানগুলোকে নতুন রূপ ও আমেজে সাজানো হয়েছে।

ঈদের দিন শনিবার, আবহাওয়া কিছুটা মেঘলা ও ঠান্ডা ছিল এবং মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। যার কারণে এই বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা আজকের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

অনেক কিশোর-কিশোরী, ছাত্রছাত্রী, তরুণ-তরুণী, দম্পতি ও শিশুরা তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে এই জায়গাগুলোতে জড়ো হয়, যেখানে অস্থায়ী মেলা, শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক রাইড এবং নানা ধরনের হস্তশিল্প, খাবার ও খেলনার দোকান বসানো হয়েছে।

আজ দুপুরে রংপুর শহরের চিকলী লেক ওয়াটার পার্কে বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কুল শিক্ষার্থী লোকমান, জহির, মনোয়ারা ও ফাহমিদা জানায়, আজকের এই চমৎকার আবহাওয়ায় সেখানকার প্রকৃতির সৌন্দর্য ও মহিমা উপভোগ করতে পেরে তারা উচ্ছ্বসিত।

কলেজছাত্রী সোমা ইসলাম, উম্মে কুলসুম ও কাকলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী দীপিকা খাতুন, মোসলেমা ও ছাত্র আবেদ হাসান জানান, নগরীর চিকলী লেক ওয়াটার পার্কে স্পিডবোটে চড়ে তারা আনন্দ পেয়েছে।

রংপুরের ‘প্রয়াস’ এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক পরিদর্শনকালে দম্পতি গোলাম আহাদ ও ফাইজুন নেসা জানান, সেখানে বিনোদন ও আনন্দের মাঝে তাদের দুই ছেলে ফাহাদ (১৩) ও বোরহানের (১১) সঙ্গে ঈদের ছুটি উপভোগ করে তারা খুব খুশি হয়েছেন।

রংপুর চিড়িয়াখানার শিশু পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে দম্পতি জেসমিন জামান ও মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, তারা তাদের দুই মেয়ে মহিমা (১৪) ও মুন্নি (১০) সঙ্গে নাগরদোলায় চড়ে খুব আনন্দ পেয়েছেন এবং সেখানকার বিভিন্ন প্রাণী পর্যবেক্ষণ করে অনেক কিছু শিখেছেন।

এর আগে, আজ সকালে এই দম্পতি তাদের দুই মেয়ের সঙ্গে রংপুরের চিকলী লেক ওয়াটার পার্কেও অনেক মজা করেছেন।

জেসমিন জামান বলেন, ‘নগরীর চিকলী লেক ওয়াটার পার্কটি সব বয়সের শত শত মানুষের জন্য প্রকৃতির দৃশ্য উপভোগ এবং বিভিন্ন উৎসব ও ছুটির আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।’

মহিমা ও মুন্নি জানায়, আজ তারা তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে চিকলী লেক ওয়াটার পার্ক এবং রংপুর চিড়িয়াখানা শিশু পার্ক উভয় জায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো উপভোগ করতে পেরে উচ্ছ্বসিত।

রংপুর ও লালমনিরহাটের সংযোগস্থলে গঙ্গাছড়া উপজেলার মহিপুর ঘাটে তিস্তা সেতু পরিদর্শনের সময় নবদম্পতি কালিম উদ্দিন ও শাকিলা জানান, তারা সেতু, তিস্তা নদী দেখতে এবং সেখানকার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে এসেছেন।

গৃহিণী লাভলি বেগম, হামিদা রহমান ও ফাতেমা খাতুন তাদের স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে ভিন্নজগত বিনোদন কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় জানান, তারা সেখানকার বিনোদন কেন্দ্রের চারপাশের মনোরম পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন।

হামিদা বলেন, ‘আজ আমরা এই বিনোদন কেন্দ্রের প্ল্যানেটারিয়ামে ‘বিগ ব্যাং’ তত্ত্বের মাধ্যমে বিশ্ব সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে জানলাম। এখানে না এলে আমরা জানতেই পারতাম না যে এর ভেতরে আরও একটি ভিন্ন জগৎ রয়েছে।’

ফাতেমা খাতুন বলেন, সবুজে ঘেরা ভিন্নজগত বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য অদ্ভুত গুহা, তাজমহল, মস্কো বেল, আইফেল টাওয়ার, চীনের মহাপ্রাচীর, ট্রেন ও উড়োজাহাজ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই বিনোদন কেন্দ্রের সুন্দর সুইমিং পুল ও পাখি অভয়ারণ্যটি আমার ভালো লেগেছে, যেখানে দর্শনার্থীরা সমুদ্র ও প্রশান্তির অনুভূতি পেতে পারেন এবং ভেতরে সময় কাটাতে তারা ক্লান্ত হন না।’

এদিকে, ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে বিপুল জনসমাগমের কারণে চুরি, ডাকাতি ও বিশৃঙ্খলার সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এই পর্যটন কেন্দ্র, বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদের স্থান এবং পার্ক এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।