শিরোনাম

ঢাকা, ৯ মার্চ ২০২৬ (বাসস): প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সরকারের নবঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অপচয় কমিয়ে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএনপি সরকার আগামীকাল পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে দেশের সব পরিবারকে এই কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, সরকার যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরাধিকার পেয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগগুলোকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, ‘আমরা যে পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির চাপের উত্তরাধিকার পেয়েছি, তা বিবেচনায় নিলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।’
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অগ্রসর হচ্ছে। আগে যেসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি, সেগুলোর কিছু এখন অর্জনের পথে রয়েছে। তার মতে, নতুন এই কর্মসূচি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার সরকারি প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির দিকে সরকার সতর্ক নজর রাখছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বাস্তবতাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দারিদ্র্য বাড়ার যে চিত্র উঠে এসেছে, সরকার সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন ধরে অন্তর্ভুক্তি ও বর্জনের ত্রুটি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা তারা তালিকার বাইরে থেকে যায়, আবার যাদের পাওয়ার কথা নয় তারাও তালিকায় থেকে যায়। কখনো কখনো রাজনৈতিক বিবেচনায়ও এসব তালিকা নির্ধারিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার এমন একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যা এসব সমস্যার ঊর্ধ্বে থাকবে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এটি হবে সর্বজনীন কর্মসূচি এবং ধাপে ধাপে দেশের চার কোটি পরিবারের সবাইকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসূচির অর্থায়ন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে অপচয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। বিভিন্ন পরিসংখ্যানেই তা দেখা যায়। ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে এই অপচয় কমবে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যভুক্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, রাজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের ভুলত্রুটি ও অপচয় কমাতে সরকার ডিজিটাল ব্যবস্থায় যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে অপচয় কমবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যে ত্রুটিগুলো দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়েছে, সেগুলো দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো- অপচয় কমানো এবং ডিজিটাল ব্যবস্থায় যাওয়া। সরকার সেই পথেই এগোচ্ছে।