বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৮

বন্দরে কোনো ধরনের ধর্মঘট বা বিশৃঙ্খলার অস্তিত্ব নেই: চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান

ছবি : বাসস

চট্টগ্রাম, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): চট্টগ্রাম বন্দরের অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারী ধর্মঘটে সাড়া না দিয়ে কাজে যোগদান করেছে জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো ধরনের ধর্মঘট বা বিশৃঙ্খলার অস্তিত্ব নেই। আপনারা দেখছেন- বন্দরে গাড়ি চলাচল করছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তারা বলেছেন তারা কাজে যাবেন, তাদের যেন কেউ বাধা না দেয়। কেউ তাদের কাজে যেতে বাধা দিচ্ছে না।’

চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে কঠোর ভাষায় মন্তব্য করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুরো বন্দর জিম্মি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু বিপথগামী কর্মচারী এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর আনুগত্য রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি থাকার কথা। এর বাইরে গিয়ে আনুগত্য প্রকাশ করা বন্দরের মৌলিক ভিত্তির পরিপন্থি।’

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে বন্দরের সার্বিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা প্রক্রিয়া, চলমান আন্দোলন, নির্বাচন ও বন্দরের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন তিনি।

এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা, আমাদের আনুগত্য থাকবে রাষ্ট্রের প্রতি। বন্দর যে আইনে চলে, সেই আইনের প্রতি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কেউ যদি বিপথগামী হয়ে অন্য কারো আনুগত্য বেছে নেয়, সেটা কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

তিনি বলেন, জনগণকে জিম্মি করে কিছু বিপথগামী কর্মচারী এই পথ বেছে নিয়েছে। বর্তমানে বন্দরের কার্যক্রম সচল আছে। যারা এসব করছে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। রমজানের আগে এ ধরনের একটি কাজ করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে তারা। বর্তমানে বন্দর সচল আছে। আমি ২ ঘণ্টা বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই কাজে যাবে। কেউ বাধা দেবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘রোজার সময় সামনে রেখে, যখন মানুষ বাজারে স্বস্তি চায়, তখন এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল।’

এনসিটি বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে তাড়াহুড়ার অভিযোগ নাকচ করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করেন এত তাড়াহুড়ার মধ্যে কেন হচ্ছে। আমি তো তাড়াহুড়ার কোনো কিছু দেখি না। তাড়াহুড়া থাকলে গত দেড় বছরের মধ্যেই এটি সম্পন্ন হয়ে যেত। আবার বলা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে চুক্তি করা হচ্ছে- এই প্রশ্নটা কোথা থেকে আসে, আমার মাথায় আসে না।’

তিনি বলেন, ‘যেদিন হাইকোর্টের রায় হয়েছে, সেদিন থেকেই বন্দরে মিছিল ও কর্মবিরতি শুরু হয়। ওই রায়ের পর আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিষয়টি এখন অগ্রসর হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে সংশ্লিষ্ট প্রচেষ্টা শেষ হলে পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে।’

রাষ্ট্রের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাষ্ট্রের যে অবস্থান, তা একেবারেই সঠিক। রাষ্ট্রের স্বার্থে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এবং জনগণের কল্যাণে যেটা ভালো হবে, সেটাই করা হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সমুন্নত রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

চুক্তি নিয়ে অপপ্রচার হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘চুক্তি এখনো হয়নি। অথচ আগেভাগেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ বলতে পারে না, কী চুক্তি হয়েছে। একটি প্রিম্যাচিউর প্রসেস নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘সামনে ১২ তারিখ নির্বাচন। আমি নিজে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। চট্টগ্রামে যেন একটি সুন্দর ও আদর্শ নির্বাচন হয়-এটাই আমাদের প্রত্যাশা। নির্বাচনের ঠিক আগে যদি কেউ পরিস্থিতি বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, আমি সেটাকে ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখব।’

বন্দরের ব্যর্থতার অভিযোগ নাকচ করে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো ব্যর্থতা নেই। আমরা আইনের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, আইন হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

এনসিটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বে-টার্মিনাল উপেক্ষা করা হচ্ছে- এমন অভিযোগকে ভুল উল্লেখ করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি বে-টার্মিনাল নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। প্রকল্পটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই বে-টার্মিনালের কাজ শুরু হতে দেখবেন।’