শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামীকাল ২০ জানুয়ারি। ইসির তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি, মঙ্গলবার।
প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২১ জানুয়ারি, বুধবার। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা শুরু হবে।
ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইসির পরিপত্রে বলা হয়েছে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১৬ অনুচ্ছেদে দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নিম্নরূপ বিধান রয়েছে: (১) বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত কোনো লিখিত নোটিশের মাধ্যমে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত তারিখ বা তার পূর্বে নিজে অথবা লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের নিকট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।
(২) যেক্ষেত্রে কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল একটি নির্বাচনি এলাকায় একের অধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে,
সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বাক্ষরিত লিখিত পত্রের মাধ্যমে তিনি নিজে বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্ধারিত তারিখ বা তার পূর্বে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করবেন এবং সেক্ষেত্রে উক্ত দলের অন্যান্য প্রার্থী আর প্রার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না।
(৩) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য লিখিত নোটিশ দেয়া হলে বা রাজনৈতিক দল কর্তৃক প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হলে কোন অবস্থাতেই তা প্রত্যাহার বা বাতিল করা যাবে না।
(৪) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নোটিশ এবং রাজনৈতিক দল কর্তৃক প্রদত্ত চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হলে রিটার্নিং অফিসার যদি সন্তুষ্ট হন যে স্বাক্ষর সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বা দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী কোনো ব্যক্তির, সেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার উক্ত নোটিশের একটি অনুলিপি তার কার্যালয়ের দর্শনীয় স্থানে টাঙ্গিয়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবেন।
(৫) রিটার্নিং অফিসার, প্রত্যাহারের তারিখের অব্যবহিত পরের দিন, নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণের
তালিকা প্রস্তুত করে প্রকাশ করিবেন।
প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর কার্যক্রম: এ বিষয়ে ইসির পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখের পরের দিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করতঃ নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এক্ষেত্রে আইন ও বিধি অনুসারে নির্ধারিত ফরম-৫ এ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণের নামের তালিকায় নামগুলো বাংলা বর্ণক্রমানুসারে সাজিয়ে লিখতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে রোববার ইসি আপিল নিষ্পত্তি শেষ হয়।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬৪৫টি আপিল আবেদন দায়ের করা হয়। এরমধ্যে আপিল মঞ্জুর হয়েছে ৪২৫টি। এছাড়া ২০৯টি আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। আর ১১টি আপিল প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ইসির তফসিল অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করা হয়। এসময়ে ইসিতে ৬৪৫টি আপিল আবেদন দায়ের করা হয়। এরপর গত ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি গ্রহণ করে আপিল নিষ্পত্তি করা হয়।
আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিনে রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘কোনো পক্ষপাতিত্ব করে কোনো রায় আমরা দেয়নি। আমরা অনেক বিশ্লেষণ করে যেটা সঠিক মনে করেছি, আল্লাহতালার তরফ থেকে আন্ডারস্ট্যান্ডিং, ক্যাপাসির আলোকে করেছি। আপিল নিষ্পত্তি করতে আপনারা সুন্দরভাবে সহায়তা করেছেন। এটা শেষ সহায়তা নয়। ভোটটা যাতে সুন্দরভাবে করতে পারি সেই সহায়তা দরকার। সেই সহায়তা চাই।’
গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৩শ’ নির্বাচনী এলাকায় মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টিকে বৈধ এবং ৭২৩টিকে বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।