শিরোনাম

ঢাকা, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার লক্ষ্যে সারাদেশে সাতদিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
বুধবার জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচনের চার দিন আগে, অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে এবং স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনে প্রায় ১২৭.৫ মিলিয়ন ভোটার অংশগ্রহণ করবেন। মোট ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে। বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৮ লাখেরও বেশি সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সদস্য ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে।
এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের প্রায় দেড় লাখ, সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র (বিজিবি) ৩৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং কোস্টগার্ডও মোতায়েন করা হবে।
পরিপত্রে জানারো হয়, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র এবং কেন্দ্রের এলাকায় সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে দু’জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য, একজন সশস্ত্র সেকশন কমান্ডার এবং তিনজন আনসার সদস্য পাহারা দেবেন।
অন্যদিকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং তিনজন আনসার সদস্য থাকবেন। এর মধ্যে একজন সশস্ত্র সেকশন কমান্ডার থাকবেন।
মহানগর এলাকার প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে একজন সশস্ত্র সেকশন কমান্ডারসহ তিনজন সশস্ত্র পুলিশ এবং তিনজন আনসার সদস্য থাকবেন। আর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে চারজন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং একজন সশস্ত্র সেকশন কমান্ডারসহ তিনজন আনসার সদস্য থাকবেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য দুর্গম এলাকায় প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে দু’জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং একজন সশস্ত্র সেকশন কমান্ডারসহ তিনজন আনসার সদস্য থাকবেন। এই এলাকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং একজন সশস্ত্র সেকশন কমান্ডারসহ তিনজন আনসার সদস্য থাকবেন।
এছাড়াও, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রে প্রত্যেক প্রিজাইডিং অফিসারকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য একজন সশস্ত্র আনসার সদস্য দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে সারা দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করার জন্য চারজন মহিলা এবং ছয়জন পুরুষসহ ১০ জন আনসার সদস্য নিযুক্ত থাকবেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
নির্বাচন কমিশন ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে এবং পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ধরনের দুটি বৈঠক করেছে।
এই বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে।
সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের আগে দুই পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই পরিকল্পনার আওতায় ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত সমস্ত কার্যক্রম রিটার্নিং অফিসারের অধীনে সমন্বয় করা হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানা ভিত্তিক কাজ করবে। আর উপকূলীয় এলাকার জন্য কোস্টগার্ড মোতায়েন থাকবে।
আরও বলা হয়, সকল বাহিনী রিটার্নিং অফিসারের কাছে রিপোর্ট করবে। এছাড়া তার নির্দেশ এবং পরামর্শ অনুসারে সবার দায়িত্ব পালন করবে।
পুলিশ, আনসার ভিডিপি, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং র্যাবের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে একটি আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠনের কথাও বলা হয়েছে।