বাসস
  ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২২

নতুন অধ্যাদেশে বিমান খাতে সিন্ডিকেটের লাগাম টানা হয়েছে: উপদেষ্টা

আজ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। ছবি: পিআইডি

ঢাকা, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, সদ্য জারি করা ‘ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ টিকিট ব্যবসায় সিন্ডিকেট ও অনৈতিক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে, কারণ এতে এসব অনুশীলন আগের তুলনায় অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।

আজ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাদেশ জারির প্রেক্ষাপটে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, নতুন এই আইনি কাঠামোর আওতায় এয়ারলাইন অপারেটর, গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস), নিউ ডিস্ট্রিবিউশন ক্যাপাবিলিটি (এনডিসি), ট্রাভেল জিএসএ এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে একক জবাবদিহি কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেটে জড়িতরা যাতে সহজে কাজ করতে না পারে, সে জন্য তাদের ব্যবহৃত প্রক্রিয়াগুলোকে আমরা জটিল করে তুলেছি।’

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিবন্ধকতা তৈরির লক্ষ্যে অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেখ বশির উদ্দিন বলেন, তার লক্ষ্য কেবল টিকিটের দাম কমানো নয়, বরং তা যৌক্তিক পর্যায়ে আনা। তিনি জানান, ভাড়া ইতোমধ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমেছে, তবে এখনো তা অযৌক্তিক রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘টিকিটের দাম আরও কমে যুক্তিসংগত পর্যায়ে আসা উচিত।’

উপদেষ্টা জানান, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও ম্যানুয়াল যাচাইয়ের মাধ্যমে ভুয়া অনলাইন বুকিং শনাক্ত করার ক্ষমতা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে তদারকি কর্তৃত্ব থাকবে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের হাতে।

সরকারের বিশ্বাস, অধ্যাদেশটির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ট্রাভেল এজেন্সি খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে, ভোক্তা ও প্রবাসী শ্রমিকদের আস্থা বাড়বে এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্প গড়ে উঠবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহান অধ্যাদেশের বিভিন্ন বিধান তুলে ধরে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

তিনি জানান, ‘ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’-এ সংশোধন এনে ১ জানুয়ারি অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা, ন্যায্য টিকিট মূল্য নির্ধারণ, বিমান পরিবহনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা দেওয়া।

সচিব বলেন, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে কয়েকটি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে যায়। একই সময়ে প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রতারণা, বিভ্রান্তিকর প্রলোভন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া যায়।

তিনি জানান, নতুন অধ্যাদেশে ভোক্তা ও প্রবাসী শ্রমিক সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে টিকিটের দাম যৌক্তিকীকরণও রয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, লেনদেনের পরিমাণ বেশি এবং আর্থিক ঝুঁকি উচ্চ হওয়ায় অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে ১ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি রাখতে হবে। অন্যদিকে অফলাইন এজেন্সিগুলোর জন্য এই গ্যারান্টির পরিমাণ হবে ১০ লাখ টাকা।

নাসরিন জাহান বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে টিকিটে ট্রাভেল এজেন্সির নাম, নিবন্ধন নম্বর এবং প্রকৃত টিকিট মূল্য ছাপানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ভুয়া বুকিংয়ের মাধ্যমে আসন ব্লক করা এবং জিডিএস লগইন তথ্য শেয়ার করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এজেন্সিগুলোকে সরাসরি এয়ারলাইন বা অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। এর ফলে একাধিক ধাপে মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ হবে এবং সিন্ডিকেশনের মাধ্যমে কৃত্রিম আসন সংকট সৃষ্টির সুযোগ থাকবে না।

সচিব বলেন, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঋণখেলাপিদের নিবন্ধন না দেওয়া, প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত না থাকার মর্মে হলফনামা দাখিল এবং প্রকৃত মালিকানা ও তহবিলের উৎস প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা। সন্তোষজনক আর্থিক ও কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে প্রতি তিন বছর অন্তর নিবন্ধন নবায়নের বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, দণ্ডের বিধানও জোরদার করা হয়েছে। এর আওতায় সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

গুরুতর ক্ষেত্রে নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে এবং জনস্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।