শিরোনাম

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
রোববার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। টানা আড়াই ঘন্টার বৈঠকটি শেষ হয় রাত সাড়ে ৯টায়।
বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেছেন। আলোচনায় মূলত দেশের আগামী দিনের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিল্পায়ন ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের রূপরেখা প্রাধান্য পেয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি ব্যবসাবান্ধব ও বিনিয়োগ-সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের বড় সমস্যা হলো, বিনিয়োগ হছে না বরং কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে৷ তারা ক্যাপিটাল মার্কেটের সমস্যাগুলোও তুলে ধরেন তারেক রহমানের কাছে৷ সরকার গঠন করতে পারলে প্রত্যাশা পূরণে আগামীতে ব্যবসা বাণিজ্যের কষ্ট কমাতে পারে৷ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, চাঁদাবাজ ও ব্যাংক সুদ সংক্রান্ত সমস্যা এবং দুর্নীতির কারণে ব্যবসায় প্রতিকূলতা বেড়ে যাচ্ছে। আগামীতে ক্ষমতায় আসলে বিএনপি এসব সমস্যার সমাধান করবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন৷
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিক উন্নয়নে বিএনপি কিছু কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে ব্যবয়ায়ায়ীদের কাছে৷ তাদেরকে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যত সংস্কার সব বিএনপির আমলে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ব্যবসায়ীরাও আশা করেছেন বিএনপি ক্ষমতায়ায় আসলে তারা এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবে৷ কারণ, বিএনপি বিজনেস ফ্রেন্ডলি রাজনৈতিক দল। তারা অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হবে।
ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন- এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন।
তিনি বলেন, আমরা বৈঠক করতে আসিনি, এসেছিলাম শোক জানাতে। বেগম জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, পথিকৃৎ ছিলেন। তারেক রহমান আমাদের সমস্যার কথা শুনতে চেয়েছেন, ক্ষমতায় এলে সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দিয়েছেন।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি বলেন, ব্যবসা ক্ষেত্রে চলমান সমস্যা বিষয়ে আলোচনা করেছি। যেমন-ইন্ডাস্ট্রিকে চালিয়ে রাখা, কর্মসংস্থানকে ঠিক রাখা এবং বর্ধিত করা। আমরা চাই, যে সরকার যেই আসুক অর্থনৈতিক উন্নয়ণে ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস আনতে হবে।
তিনি আরও নলেন, কারণ আমাদের সাকসেসই সরকারের সাকসেস। আলোচনায় আমাদের সমস্যাগুলো বলেছি। তারা হয়ত সব জায়গায় পারবেন না, কিছু জায়গায় পারবেন। কিন্তু আন্তরিকভাবে তারা করতে চান।
আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, ইকোনমি যদি ঠিক করতে হলে ব্যবসায়ীদেরকে সঙ্গে নিয়ে করা উচিত। সেটাই আমরা তারেক রহমানকে বলেছি। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
তিনি বলেন, যে সরকারই আসুক না কেন তাদের উচিত ব্যবসায়ীদের নিয়েই একসাথে কাজ করা। তারেক রহমানও জানিয়েছেন যে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের প্রস্তাবিত পলিসিগুলি নিয়ে কাজ করবেন। একই সঙ্গে তিনি ট্রান্সপারেন্সি আনার চেষ্টা করা এবং ব্যবসায় সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করার আশ্বস্ত করেছেন।
এফবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুবই আন্তরিকভাবে আমাদের কথা শুনেছেন, নোট নিয়েছেন। আমরা বলেছি অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাইলে ব্যবসায়ীদের সফল করতে হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করার প্রগিশ্রুতি দিয়েছেন।
বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এ সময় স্টক মার্কেট গতিশীল ও ব্যাংকগুলোর অবস্থা উন্নত করারও দাবি জানান। সর্বোপরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও মব কালচার বন্ধের জোর দাবি জানান।
বৈঠকে অংশ নেন তারা হলেন-ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলী হোসেইন আকবর আলী, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন ও এ কে আজাদ, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, উত্তরা মোটর করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী।
এছাড়াও পারটেক্স গ্রুপের আজিজুল কায়সার, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার, বিসিএমইএর সভাপতি ময়নুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) সভাপতি আব্দুল মোকতাদির, বিএবির সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক, বিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামিম এহসান এবং ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান শরীফ জহির উপস্থিত আছেন।