বাসস
  ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৯

কোল্ড স্টোরেজে রেখে সুবিধাজনক সময়ে ফসল বিক্রি করতে পারবেন কৃষক : শিক্ষামন্ত্রী

শুক্রবার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার এলাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: বাসস

চাঁদপুর, ৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : কৃষকদের আর মৌসুম শেষে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হবে না, প্রয়োজন অনুযায়ী কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের ফলে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে, সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়বে এবং কৃষি আরও লাভজনক হবে।

আজ বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার এলাকায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় বিনামূল্যে হাইব্রিড সোলার অপারেটেড মিনি কোল্ড স্টোরেজ বিতরণ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের পাইলট প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত এ উদ্যোগকে কচুয়ার কৃষি উন্নয়নের নতুন দিগন্ত হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল কচুয়া।

পাশাপাশি, রবি মৌসুমে এখানে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের যে সংকট ছিল, তা দূর করতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে এই মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, প্রকৃত কৃষকরা এসব কোল্ড স্টোরেজে আলু, বীজ, ডিমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন। এতে কৃষকদের আর মৌসুম শেষে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে, যা কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

মন্ত্রী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, রেজিস্টার মানেই সংঘবদ্ধ ব্যবসা। বাজারের উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সব দাবি আদায়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাজার সমিতি এমনভাবে পরিচালিত হবে, যেখানে সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রতিটি বাজার সমিতিই হবে, সেই বাজারের সংসদ।

তিনি আরও বলেন, আমরা সামাজিক উন্নয়ন ও বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। অতীতের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য মানুষ আজ অনুভব করছে। এখন ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছেন, কেউ অযথা হয়রানি করছে না।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে ড. মিলন বলেন, আমি কচুয়ার সন্তান। আওয়ামী দুঃশাসনের সময় মানুষ কীভাবে নির্যাতিত হয়েছে, তা আমি নিজ চোখে দেখেছি।

ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে সাচার বাজারে কেউ মুখ খুলতে পারত না। এলাকায় যে ডাকবাংলো ছিল, সেটিও একসময় মাদকাসক্তদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছিল। 

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাইয়ের সেই নির্মম হত্যাযজ্ঞ আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। অতীতের দুঃস্বপ্নকে শিক্ষা হিসেবে ধারণ করে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে। কোথায় ছিলাম, কোথায় এসেছি এবং কোথায় যেতে চাই সেই উপলব্ধি থেকেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সৈকত দাস, উপজেলা উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মিয়াজী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনির হোসেন, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মিজান মোল্লা, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম সবু, সাধারণ সম্পাদক জহির সরকার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান জুয়েলসহ স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাঝে হাইব্রিড সোলার অপারেটেড মিনি কোল্ড স্টোরেজ বিতরণ করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।