বাসস
  ১৪ জুন ২০২৬, ২১:৪৪
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ২২:২৩

আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দলের ব্রোঞ্জ পদকসহ গৌরবময় অর্জন

বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাসিন মোহাম্মাদ এবং সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থী রূপকথা রায়। ছবি: বাসস

ঢাকা, ১৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (ওআইবিও) ২০২৬-এ অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরবময় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ দল।

সম্প্রতি রাশিয়ার ‘সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরি’-তে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থী অংশ নেন।

অলিম্পিয়াডে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অনন্য মেধার স্বাক্ষর রেখে বাংলাদেশ দলের তাসিন মোহাম্মাদ ব্যক্তিগতভাবে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন। এছাড়া দলগত প্রকল্প রাউন্ডে বাংলাদেশ দল বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

আজ এখানে প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাসিন মোহাম্মাদ এবং সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থী রূপকথা রায়। দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর প্রভাষক আফিয়া নওশীন।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ দলের এই অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রম সমন্বয় করেছে ‘সাস্টেইনেবিলিটি অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস নেটওয়ার্ক’ (এসএলএসএন) এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অলিম্পিয়াডটি মূলত তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক ও প্রকল্পভিত্তিকÑ এই তিনটি প্রধান ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ‘আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞানের ব্যবহারিক পদ্ধতিসমূহ’ শীর্ষক প্রকল্প রাউন্ডে ‘টিম বাংলাদেশ’ ও ‘প্রকল্প বিজয়ী’ স্বীকৃতি লাভ করে। তাসিন মোহাম্মাদ ও রূপকথা রায়ের সমন্বয়ে গঠিত এই দলের প্রকল্পের আওতায় আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞানের বিভিন্ন ব্যবহারিক গবেষণা পদ্ধতি, মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ, পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ, নমুনা বিশ্লেষণ, ডিএনএ ভিত্তিক গবেষণা এবং অঙ্গসংস্থানিক বা আকৃতিগত বিদ্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সীমিত সদস্য নিয়ে অংশ নিলেও বাংলাদেশ দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণাভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে নিজেদের বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ও উচ্চতর গবেষণা সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে আধুনিক পরীক্ষাগারভিত্তিক বিশ্লেষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দলটি সমন্বিত ও সফলভাবে কাজ করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই গৌরবময় অর্জন দেশের তরুণ বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এই স্বীকৃতি জীববিজ্ঞান ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতায় দেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রতিফলন এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের পথ সুগম করবে।