বাসস
  ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৮

বাংলাদেশে একটি ব্যতিক্রমধর্মী মনোরম পরিবেশের ক্যাম্পাস হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : চবিতে আমির খসরু

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক প্রথম কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: পিআইডি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে একটি ব্যতিক্রমধর্মী এবং অত্যন্ত মনোরম পরিবেশের ক্যাম্পাস হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এরকম একটা পরিবেশের আমরা সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে যদি না পারি, এটা আমাদের অনেক বড় ব্যর্থতা, আমাদের দুর্ভাগ্য।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এসে দেশের প্রথম ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক প্রথম কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন শেষে আজ এ কথা বলেন তিনি। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক দিন পর ঢুকেছি। এখানে ঢুকতে ঢুকতে আমার মনে হচ্ছে, আই এম ইন দ্য নেচার, আমি প্রকৃতিতে ডুবে গেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি কোনো একটা পাহাড়ি রিসোর্টে ঢুকে গেছি। এত বড় একটা এলাকা নিয়ে এরকম একটা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের মতো ছোট্ট একটা দেশে!’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘আপনাদের এখানে ওয়াইল্ডলাইফ কতগুলো আছে, পাখি কতগুলো আছে, আপনারা এগুলো ক্যাটালগ করেন। বাংলাদেশে এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী এবং অত্যন্ত মনোরম পরিবেশের ক্যাম্পাস। এরকম একটা পরিবেশের আমরা সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে যদি না পারি, এটা আমাদের অনেক বড় ব্যর্থতা, আমাদের দুর্ভাগ্য।’

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপিকে উদ্দেশ্য করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে নেক্সট লেভেলে নিয়ে যান। আমি ভিসি সাহেবকে বলছি, আপনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে নেক্সট লেভেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রোগ্রামের আয়োজন করেন। এত বড় একটা সম্ভাবনাময় জায়গা, ইট ইজ দ্য বেস্ট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড রেটিংয়ে উচ্চ পর্যায়ে যাওয়ার মতো একটা বিশ্ববিদ্যালয়।’


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখানে কোনো ধর্মের বা বর্ণের মানুষকে আলাদাভাবে দেখতে চাই না। গত ১৭ বছরের অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা কাটিয়ে, ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে আমরা যে জায়গায় এসেছি, এখান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমৃদ্ধি ও উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখন।’

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এবং অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান শ্রীমতি অনিতা চৌধুরী।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ২০১১ সালে সনাতন ধর্ম পরিষদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চবির উত্তর ক্যাম্পাসে ২ নং গেট এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমিতে কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০১২ সালে এটি সিন্ডিকেটে পাশ হয়। এরপর অদুল-অনিতা ট্রাস্টের অর্থায়নে ২০১৯ সালে মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এটি দেশের প্রথম এবং একমাত্র ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’।