শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ মার্চ, ২০২৬(বাসস): সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, তরুণ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। যা বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজেও প্রকাশ করা হয়েছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার স্থান ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সংরক্ষণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান নিতাই রায় চৌধুরী। এ জন্য তিনি চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, শুধু জিয়া স্মৃতি জাদুঘরই নয়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক স্থান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেন। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম জাদুঘরের কাজ চলছে এবং সেখানে স্টাফ রয়েছে। জাদুঘরের পাশে একটি শিশু পার্ক করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা আগে সেনাবাহিনীর কাছে ছিল। এখন সেখানে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে কাজ হবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যে ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটি সরিয়ে এই জাদুঘরে নিয়ে আসা হয়েছে। যেখান থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, সেই স্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এই জাদুঘর ও সংলগ্ন এলাকাটিকে ল্যান্ডস্কেপ করে সুন্দরভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপি সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সর্বজনীন করতে চায় উল্লেখ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার ইতিহাসে যার যে অবদান, সেটার প্রাপ্য স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে চায়।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, 'আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার ইতিহাস ম্লান করে দিয়ে এক ব্যক্তির ও পারিবারিক ইতিহাস তৈরি করার চেষ্টা করেছে।
২৫ মার্চের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় কে বিদ্রোহ করল, আর কে ধরা দেওয়ার জন্য স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করল, সেই সত্য ইতিহাস বোঝা প্রয়োজন।’
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টিকে দলীয়করণ করেছিল। দলীয়করণের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক, বীমা করপোরেশন) সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। তখন সম্পূর্ণ একটি ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছিল। ফ্যাসিমো শব্দ থেকে ফ্যাসিজম এসেছে, যার অর্থ বল প্রয়োগ। যেমন-হিটলার, মুসোলিনি, ফেরাউন বা চেঙ্গিস খাঁরা রাষ্ট্রযন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে বল প্রয়োগের মাধ্যমে পরিচালনা করতেন।
জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নেতৃত্ব শূন্য অবস্থায় জাতি ছিল দিশাহারা। কত মানুষ তখন বদলা নিতে চায়। এই ঘটনার পর (স্বাধীনতার ঘোষণার পর) সব মানুষের ভেতরে আবার প্রচণ্ডভাবে একটা জীবন জেগে উঠল। বিদ্রোহের আগুন তখন চাপা এবং সাধারণ মানুষ, ছাত্র-যুবক, শ্রমিক, কৃষক, মাঝিমাল্লা প্রত্যেকে তখন যুদ্ধের জন্য নেমে পড়ল।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিকভাবে মুক্তিযুদ্ধে যার যে ভূমিকা, সেটা আমরা তুলে ধরতে চাই। ইতিহাসটাকে মুছে ফেলে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করার ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে বিভিন্ন আদর্শ ও রাজনৈতিক চিন্তার লোক থাকলেও ‘বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য’ বজায় রাখা এবং গরিব ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে নারী শক্তিকে জাগিয়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একটি সমাজ কতটা আধুনিক, তা সেই সমাজের নারীদের অবস্থান দেখে বোঝা যায়। নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে ও তাদের হাতে আর্থিক ক্ষমতা পৌঁছে দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা তাদের স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ১৮ বছর কোনো সঠিক ভোট হয়নি, দিনের ভোট রাতে হয়েছে। এক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক ইউনিভার্সিটি ও স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা সিদ্ধান্ত নিল যে, এবার লাগাম ধরতে হবে। এক পর্যায়ে তরুণরা সিদ্ধান্ত নিল জীবন দেওয়ার। বুক পেতে গুলি নেওয়া কোনো সহজ আত্মত্যাগের ব্যাপার নয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের মতোই এই আন্দোলনেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে।