শিরোনাম

ঢাকা, ২১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা) ড. মাহদী আমিন বলেছেন, বিগত বছরগুলোতে বকেয়া বেতন-বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা ও শ্রমিক অসন্তোষের চিরাচরিত দৃশ্যপট কাটিয়ে এবারের ঈদে দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে এক ভিন্ন ও স্বস্তিদায়ক চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যকর পদক্ষেপ ও নিবিড় তদারকিতে শ্রমিকরা এখন নিশ্চিন্তে ও হাসিমুখে ঘরে ফিরছেন।’
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা জানান তিনি।
মাহদী আমিন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে ড. মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ‘বহু বছর ধরে ঈদের আগে এক পরিচিত দৃশ্য ছিল, দেশজুড়ে অদৃশ্য উৎকণ্ঠা থাকতো। শ্রমিক অসন্তোষ, বকেয়া বেতন, রাস্তা অবরোধ, আর ঘরে ফেরার অনিশ্চয়তাই যেন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঈদকে ঘিরে শ্রমজীবী মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি দেখা যাচ্ছে।’
তিনি জানান, রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস খাতসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কর্মরত প্রায় সব শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তার বেতন এবং ঈদ বোনাস আগেভাগেই নিশ্চিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশে প্রায় সব কারখানাই ফেব্রুয়ারির বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে এবং বেশিরভাগ কারখানা মার্চ মাসের বেতনেরও বড় অংশ প্রদান করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনা ও নজরদারিতে এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় এই কর্মযজ্ঞ সম্ভব হয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে ছিল মূল স্টেকহোল্ডারদের সাথে ধারাবাহিক আলোচনা এবং সমন্বিত পরিকল্পনা।
এক্ষেত্রে পুলিশ, প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন ও শ্রমিক সংগঠনগুলো একযোগে কাজ করেছে; যাতে কোনো শ্রমিক ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন।
ড. মাহদী আমিন তার স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু স্বচ্ছ ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এরমধ্যে সরকার, শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিদের নিয়মিত সমন্বয় সভা। সমস্যা সংকুল কারখানা নিয়ে পৃথক কৌশল ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় বেতন ও বোনাস পরিশোধে প্রয়োজনীয় ঋণ বা অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ।
তিনি বলেন, পরিবারের কাছে উৎসবমুখর পরিবেশে ফিরে যাওয়ার এই অনুভূতি কেবল ব্যক্তিগত নয়; বরং সামষ্টিক আন্তরিকতার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে এবং দেশের পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিষয়েও গভীরভাবে দায়বদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মাঝে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও রাষ্ট্র শুরু থেকেই সক্রিয় রয়েছে।’
ড. মাহদী আমিন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গণমানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের এই মমত্ববোধ ও অঙ্গীকার অনিঃশেষ থাকবে।