বাসস
  ০২ আগস্ট ২০২৬, ২৩:১৮

উচ্চশিক্ষায় সহনশীলতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। ছবি: বাসস

ঢাকা, ২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : সমাজে বিদ্যমান অস্থিরতা, বৈষম্য ও দুর্নীতি দূর করতে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহনশীলতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, নৈতিকতা এবং ন্যায্যতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

আজ রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত ‘শান্তির জন্য দর্শন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মুস্তাফা আবুলওলায়ীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার পাল, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান এবং বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. শাহজাহান মিয়া।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, গবেষণা ও অর্থনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে নেতৃত্ব দেয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহনশীলতা, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারকেরা সমাজে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হতে পারেন, যার ফলে দুর্নীতি ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।’

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার কারণে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমাশীলতা, সংলাপ ও ন্যায়ভিত্তিক পুনর্মিলনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একটি মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই প্রথম পাঠশালা হিসেবে উল্লেখ করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ইউজিসির পদক্ষেপ তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, অতিরিক্ত পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য সফট স্কিল, নৈতিকতা ও মূল্যবোধবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ মডিউল প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নকে কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, উন্নয়নের দর্শন হতে হবে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক। প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের বিকাশকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কেবল কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীকে দায়িত্বশীল নাগরিক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমালোচনামূলক চিন্তা, নৈতিক শিক্ষা ও যুক্তিনির্ভর সংলাপের সংস্কৃতি জোরদারে দর্শনশাস্ত্রের শিক্ষক ও গবেষকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান শিক্ষক, গবেষক ও দর্শন চিন্তাবিদরা অংশ নেন। সম্মেলনে শান্তি, নৈতিকতা ও সমকালীন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দর্শনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।