শিরোনাম

ঢাকা, ২০ জুন, ২০২৬ (বাসস) : দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) ‘বিইউবিটি ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াড-২০২৬’ শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিইউবিটি উপাচার্য ড. এ বি এম শওকত আলী।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতায় ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৫টিরও বেশি কলেজের ২৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। অলিম্পিয়াডে আর্থিক সাক্ষরতা, তথ্য বিশ্লেষণ, ক্ষুদ্র ও সামষ্টিক অর্থনীতি, জাতীয় বাজেট বিশ্লেষণ, পরিবেশগত অর্থনীতি এবং সমসাময়িক অর্থনৈতিক ইস্যুভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য শওকত আলী বলেন, বিশ্বমানের অর্থনীতিবিদ তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ই ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মুস্তাফা কে মুজেরী বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বিইউবিটির ব্যবসায় ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন ড. সৈয়দ মাসুদ হোসাইন বলেন, অলিম্পিয়াডটি কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি দেশের মেধাবী তরুণদের অর্থনৈতিক চিন্তা ও বিশ্লেষণী সক্ষমতা বিকাশের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম।
অনুষ্ঠানের সেশন চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুল হাসান এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে ‘জাতীয় বাজেট সহজ শিক্ষা’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেশন শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এতে জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন বিষয় সহজ ও বোধগম্যভাবে উপস্থাপন করা হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেট সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সেশনের প্রধান অতিথি ছিলেন ড. মো. আবদুর রউফ।
প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত ও দলগত উভয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রাথমিক বাছাই পর্ব শেষে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়, যেখানে দ্রুতগতির অর্থনৈতিক কুইজ ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
অলিম্পিয়াডে কলা, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান এই তিনটি শাখায় পৃথকভাবে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিজয়ীরা ট্রফি, সনদপত্র এবং বিইউবিটির অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃত্তি লাভের সুযোগ পাবে। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে সনদপত্র দেওয়া হয়।