বাসস
  ২৯ মার্চ ২০২৬, ১০:২৪

গাজীপুরে হত্যা মামলার আসামি সাবেক কাউন্সিলার গ্রেফতার

প্রতীকী ছবি

গাজীপুর, ২৯ মার্চ ২০২৬ (বাসস): বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে নিহত কলেজ ছাত্র মো. হৃদয় হোসেন হত্যা মামলার আসামি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলার আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে কোনাবাড়ী থানাধীন নছের মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে নেওয়া হয়েছে।
আবুল কালাম আজাদ কোনাবাড়ী থানার নছের মার্কেট এলাকার আব্দুল পালোয়ানের পুত্র। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন।

নিহত হৃদয় হোসেন (২০) টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার আলমগড় গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র। তিনি হেমনগর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে কোনাবাড়ী এলাকায় থেকে অটোরিকশা চালাতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়কের শরিফ মেডিক্যাল সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন হৃদয়। এ সময় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি রাস্তার পাশে সরে দাঁড়ান। এ সময় দায়িত্বে থাকা শিল্প পুলিশের কয়েকজন সদস্য তাকে আটক করে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ কনস্টেবল আকরাম পেছন দিক থেকে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই হৃদয়ের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ফুফাতো ভাই মো. ইব্রাহিম বাদী হয়ে কোনাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। যার মধ্যে সাবেক কাউন্সিলার আবুল কালাম আজাদও রয়েছেন।

কোনাবাড়ী থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. আসিফ ইকবাল বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, হৃদয় হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আবুল কালাম আজাদ কালের ভিটা এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে জিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।