বাসস
  ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৯

ময়মনসিংহের ১১টি আসনের বিপরীতে লড়বে ৬৭ জন প্রার্থী

নির্বাচন কমিশন ভবন । ফাইল ছবি

\ আব্দুল কাইয়ুম \

ময়মনসিংহ, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন গতকাল মঙ্গলবার ১৯ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন। ফলে ১১টি আসনে মোট ৬৭জন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে লড়বেন।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া): আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তাদের মধ্যে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান (মুক্তা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. তাজুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জিল্লুর রহমান, কমিউনিস্ট পার্টির আজহারুল ইসলাম, লেবার পার্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক এবং সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এর মো. আ. রাজ্জাক। এ ছাড়াও বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ সালমান ওমর রুবেল।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা): আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করলেও শেষ দিনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মতিউর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার হাসান। নির্বচনের মাঠে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মাওলা ভূইয়া, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মো. জুলহাস উদ্দিন শেখ এবং জাতীয় পার্টির মো. এমদাদুল হক খান। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক ও বিএনপির বহিস্কৃত নেতা শাহ শহীদ সারোয়ার ভোটের মাঠে রয়েছেন।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ৭ জন। এদিনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. ফজলুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. বদরুজ্জামান। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন, বিএনপির এম. ইকবাল হোসেইন, ইসলামী আন্দোলনের মো. শরিফুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এর এ.কে.এম. আরিফুল হাসান ও নেজামে ইসলাম পার্টির মো. আবু তাহের খান। অপরদিকে বিএনপির বহিস্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ।

ময়মনসিংহ-৪ (ময়মনসিংহ সদর) জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১০ জন প্রার্থী। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোস্তাক আহম্মদ। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপি প্রার্থী মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামরুল আহসান এমরুল, জাতীয় পার্টির মো. মূসা সরকার, কমিউনিস্ট পার্টির এমদাদুল হক মিল্লাত, গণসংহতি আন্দোলনের মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের মো. নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মো. লিয়াকত আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. হামিদুল ইসলাম এবং সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) শেখর কুমার রায়।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা): আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রেজাউল করিম। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মো. মতিউর রহমান আকন্দ, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. রফিকুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ৯ জন প্রার্থী। শেষ দিনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন- খেলাফত মজলিসের মো. রফিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল করিম। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন- বিএনপির মো. আখতারুল আলম ফারুক, জামায়াতে ইসলামীর মো. কামরুল হাসান মিলন, ইসলামী আন্দোলনের মো. নূরে আলম সিদ্দিকী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন বহিস্কৃত জামায়াত নেতা অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন ও আখতার সুলতানা। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েগেছেন ব্রিগেডিয়ার (অব.) মো. সাইফুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল): আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ৯ জন। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আ. কুদ্দুস ও খেলাফত মজলিসের মো. নজরুল ইসলাম। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন, বিএনপির কার্যনির্বাহী সদস্য ও বিএনপি প্রার্থী ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. আছাদুজ্জামান সোহেল ও জাতীয় পার্টির মো. জহিরুল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জয়নাল আবদীন ও এ আসনের সাবেক এমপি আব্দুল খালেকের ছেলে বিএনপি নেতা মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ): আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। শেষ দিনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মঞ্জুরুল হক হাসান ও খেলাফত মজলিসের আহাম্মদ হোসেন ভূঞা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপির লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, ইসলামী আন্দোলনের শাহ নূরুল কবির শাহীন (বিএনপির সাবেক এমপি), এলডিপির মো. আওরঙ্গজেব বেলাল ও জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ১০ জন প্রার্থী। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মামুন বিন আব্দুল মান্নান। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন- বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির হাসমত মাহমুদ, গণফোরামের মো. লতিফুল বারী (হামিম), ইসলামী আন্দোলনের মো. সাঈদুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শামসুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর এ.আর. খান, এই আসনের সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির একেএম একেএম আনোয়ারুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পিন্টু চন্দ্র বিশ্বশর্মা।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে সর্বাধিক ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন-দক্ষিন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলমগীর মাহমুদ, বিএনপি নেতা আল ফাতাহ মো. আ. হান্নান ও মো. মুশফিকুর রহমান। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন- বিএনপির মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্ছু, জামায়াতে ইসলামীর মো. ইসমাঈল, জাতীয় পার্টির মো. আল আমিন (সোহান), ইসলামী আন্দোলনের মো. হাবিবুল্লাহ বেলালী, এলডিপির সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ, কমিউনিস্ট পার্টির মো. সাইফুস সালেহীন, গণসংহতি আন্দোলনের এ.কে.এম. শামসুল আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মতিউর রহমান। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) হিসেবে রয়ে গেছেন আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। শেষ দিনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন- জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ছাইফ উল্লাহ পাঠান। চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন- বিএনপির ফখর উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ডা.জাহিদুল ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদের মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. মোস্তফা কামাল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএ্নপির বিদ্রোহী) হিসেবে রয়েছেন মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম।

ময়মনসিংহের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বাসসকে জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বুধবার থেকে প্রতীক বরাদ্দ এবং আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে।