বাসস
  ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩২

উষ্ণতার অপেক্ষায় একটানা শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামবাসী 

জেলার মানুষ একটুকরো গরম কম্বলের উষ্ণতার আশায় দিন গুনছে। ছবি: বাসস

\ শফিকুল ইসলাম বেবু \

কুড়িগ্রাম, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও চরাঞ্চলের মানুষ। 

তীব্র শীতে পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় তাদের জীবন ধারণ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দিনে যেমন তেমন, রাতে এক টুকরো গরম কম্বল না হলে বাঁচা দায়। শীত শুরুর পর  জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জেলায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। 

এলাকার দরিদ্র সাধারণ মানুষ তাই একটুকরো গরম কম্বলের উষ্ণতার আশায় দিন গুনছে। এক টুকরো কম্বল যেন তাদের কাছে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো। হাতে পেলেই স্বর্গ এসে যাবে হাতের মুঠোয়। 

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বাসসকে জানান, আজ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৯ শতাংশ, যার ফলে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বাসসকে জানান, জেলার নয়টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তবে শীতের তীব্রতা অনুযায়ী শীতার্তদের জন্য এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত কম্বল বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের মোট জনসংখ্যা ২৩ লাখ ২৯ হাজার। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ মানুষ দরিদ্র। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর তুলনায় সরকারি বরাদ্দের কম্বল অত্যন্ত অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে জেলায় ১ লাখ ১ হাজার ৯৮৯ জন প্রতিবন্ধী এই শীতে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

চরাঞ্চলের পরিস্থিতি সবচেয়ে শোচনীয়। জেলার ৪৬৯টি চরের মধ্যে ২৬৯টিতে বসবাস করে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এসব এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের একটি চরের বাসিন্দা রশিদ আলী বাসসকে বলেন, ‘শীত খুব বেশি পড়ছে। রাতে ঘুমানো যায় না। এখনো কোনো কম্বল পাইনি।’

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার  শিলখুরি ইউনিয়নের চরবাসী নারী শিউলি বেগম বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। শীত বাড়লে অসুখ-বিসুখও বাড়ে।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা দ্রুত অতিরিক্ত কম্বল বরাদ্দসহ শীতার্তদের জন্য বিশেষ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।