শিরোনাম

শফিকুল ইসলাম
কুড়িগ্রাম, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জেলার গ্রাম ও চরাঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলমান শীত মৌসুমে কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শীতবস্ত্র ক্রয়ের জন্য সরকারিভাবে ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে শীতের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে শিকারপুর, নাওশালা, পাঞ্জরপাড়া, বড়বের, কীর্তনীয়াতারী, চড়াইহাটি, চর নেওয়াজি, মধ্যেরচর, সন্ন্যাসীকান্দি, ভাটি বৈরাল, ভেলামারি ও উজান বৈরালসহ মোট ১২টি চর রয়েছে। এসব চরে প্রায় ৩২ হাজার মানুষের বসবাস। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এ এলাকায় দারিদ্রদের হার তুলনামূলক বেশি।
মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, তার ইউনিয়নে সরকারিভাবে ১৮০টি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ সীমিত হলেও প্রশাসনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, ‘৯টি উপজেলায় ২৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শীতবস্ত্র কেনার জন্য সরকার ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। খুব শিগ্রই আরও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।’
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শীতের তীব্রতা বিবেচনায় নিয়ে দুর্গম ও চরাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।