শিরোনাম

-মঞ্জুর মোর্শেদ-
মুন্সীগঞ্জ, ৯ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : জেলার প্রধান অর্থকরি ফসল আলু। দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ আলু উৎপাদনকারী জেলা মুন্সীগঞ্জ। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক কোন দুর্যেোগ না হওয়ায় কৃষকরা ভালো ফলনের আশা করছেন। তবে স্বাভাবিক বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন নিয়ে শংকিত। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে ফলন কম হবার আশঙ্কা রয়েছে।স্বাভাবিক বৃষ্টি হলে ফলন দ্বিগুণ হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৬শ’ ৫৫ হেক্টর। আর জেলায় ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ৯ হাজার ৫৮১ হেক্টর , টংগীবাড়ীতে ৯ হাজার ৭০ হেক্টর, শ্রীনগরে ১ হাজার ৯৪৪ হ্ক্টের, সিরাজদিখানে ৮ হাজার ৯৫৮ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৩ হাজার ১০৯ হেক্টর এবং গজারিয়ায় ১ হাজার ৯৯৮ হেক্টর জমি। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫ মেট্রিকটন। জেলায় গত মৌসুমে ৩৪ হাজার ৭৫৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। ফলন হয়েছিল প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন।
জেলার টংগীবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামের আলু উৎপাদনকারী মো. রনি বাসস’কে জানান, এই বছর তিনি সাড়ে পাঁচ কানি জমিতে আলু চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে প্রতিটি গাছে কয়েকটি আলু হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জমিতে পানি জমে থাকার মতো বৃষ্টি না হলে ফলন আশানুরুপ হবে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো রয়েছে। আলু গাছে কোন রোগ বালাই নাই। সদর উপজেলার আমঘাটার কৃষক আজমির হোসেন জানান, বৃষ্টি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি। আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে জমিতে পানি দিতে হবে। এতে খরচ অনেক বেশি হবে। স্বাবাবিক বৃষ্টি হলে ফলন দ্বিগুন হবে। সার ও বীজের দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ কম হয়েছে। আলুর বাজার সিন্ডিকেট মুক্ত থাকলে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠা যাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বাসস’কে জানান, আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। আগামীতে প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। তিনি জানান মুন্সীগঞ্জের আলু চাষীরা আলুর বীজ বপনের সময় জমিতে যে কচুরি পানা এবং ধানের নাড়া ব্যবহার করেন তাতে এখনো জমির আদ্রতা বজায় রয়েছে। এখনই জমিতে পানি দেয়ার তেমন প্রয়োজন নেই। তিনি আরো জানান, মুন্সীগঞ্জ জেলার ঐতিহ্য আলু আবাদকে লাভজনক ও টেকসই করার লক্ষ্যে সরকারিভাবে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সারের ব্যবহার কমানোর লক্ষে চলতি মৌসুমে খামারী অ্যাপস এর মাধমে জেলার ২০৬টি ব্লকে আলু চাষে সুষম সার ব্যবহার করে ব্লক ভিত্তিক প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছিল। এ বছর ৬ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানী উপযোগী জাতের আলু আবাদ করা হয়েছে।