বাসস
  ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪০
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০৫

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে যাবে বাংলাদেশ: তিতুমীর

ছবি: বাসস

রাজবাড়ী, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাসকূপ খনন, সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন সম্প্রসারণে পানি সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে রাজবাড়ী জেলার কলিমহড় গ্রামে নিজের বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

তিতুমীর বলেন, বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহকদের শুধু ভোক্তা হিসেবে না দেখে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হতো। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে গ্রাহক নিজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারতেন।

তিনি বলেন, অতীত সরকারের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে বর্তমান জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। সরকার ইতোমধ্যে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উপদেষ্টা বলেন, গ্যাসের মাধ্যমে তুলনামূলক সহজে ও কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এ কারণে নতুন গ্যাসকূপ খননের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ কাজে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-কে কাজে লাগানো হবে। অতীতের সরকার স্বজনপ্রীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিতুমীর বলেন, নদীতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি থাকলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন সঠিকভাবে বজায় রাখা সম্ভব। এ কারণে বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের অঙ্গীকার করেছে।

তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে একনেকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে শুধু পানির আধার তৈরি করা হবে না, সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

উজানের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের পানি সম্পদের সুষ্ঠু ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ৫৪টি নদীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহের সম্পর্ক রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের প্রধান ভিত্তি হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ন্যায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।

তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃতির ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে ভাটি অঞ্চলে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, পানি বণ্টনসংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে একটি কারিগরি দল গঠন করেছে। দলটি শিগগিরই এ বিষয়ে ভারতকে অবহিত করবে।