বাসস
  ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:২৫
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩১

সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ফাঁদসহ ট্রলার জব্দ

ছবি: বাসস

বাগেরহাট, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পূর্ব সুন্দরবনের নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে একটি ট্রলার জব্দ করেছে বন বিভাগ। ট্রলারটিতে তল্লাশি চালিয়ে চার বস্তা হরিণ শিকারের মালা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলারে থাকা ৬ থেকে ৭ জন শিকারি সুন্দরবনের ভেতরে পালিয়ে যায়।

আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ অভিযান চালানো হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা ওই এলাকায় নিয়মিত টহলে ছিলেন। এ সময় সাগরে একটি ট্রলার দেখতে পেয়ে সেটিকে থামার নির্দেশ দেয়া হয়।

কিন্তু বনরক্ষীদের দেখে ট্রলারে থাকা ব্যক্তিরা ট্রলারটি সুন্দরবনের পাড়ে ভিড়িয়ে দ্রুত বনের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এক পর্যায়ে সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি ডুবে যেতে শুরু করে।

পরে বনরক্ষীরা অর্ধডুবন্ত ট্রলারটি উদ্ধার করে শেলারচরে নিয়ে যান। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে চার বস্তায় বিপুল পরিমাণ হরিণ ধরার মালা ফাঁদ উদ্ধার করে। বনরক্ষীরা জানান, ট্রলার ডুবে যাওয়ার সময় ককশীট ভর্তি বরফসহ শিকারিদের অন্যান্য কিছু সরঞ্জাম সাগরে ভেসে যায়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, শুক্রবার ভোরে হরিণ শিকারিদের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় শিকারি চক্রটি হরিণ ধরার মালা ফাঁদ ও ককশীট ভর্তি বরফ নিয়ে সাগরপথে নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় যাচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সুন্দরবনে হরিণের অবৈধ শিকার দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। শিকারিরা ফাঁদ পেতে নির্বিচারে হরিণ ধরলে এর প্রভাব শুধু হরিণের সংখ্যার ওপর পড়ে না, সুন্দরবনের সামগ্রিক প্রাণবৈচিত্র্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বন বিভাগের নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকলে সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বন্যপ্রাণী রক্ষায় আরও সচেতন ও সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।