শিরোনাম

লালমনিরহাট, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : জেলার তিস্তাপাড়ের হতদরিদ্র বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের স্বাবলম্বী করতে দর্জি প্রশিক্ষণ শেষে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষিত ১৫ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন বিজিবির রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর ভাঙন ও ভাঙনজনিত নানা সংকটে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত। এসব পরিবারের অনেক নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় পুরুষের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের সংসারে আর্থিক সংকট আরও প্রকট। অর্থের অভাবে এসব পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
শিশুশ্রম রোধ এবং অসহায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে বিজিবি দর্জি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে। এর আওতায় তিস্তাপাড়ের নির্বাচিত নারীদের প্রথমে দুই সপ্তাহের দর্জি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকের হাতে একটি করে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষিত ১৫ জন বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন বিজিবির রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের।
এ সময় তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম, সহকারী পরিচালক আবদুর রাজ্জাকসহ বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত রুমী আক্তার বলেন, দুই মাস আগে রাজমিস্ত্রি স্বামী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার প্রায় নিভে যেতে বসেছিল। সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঢেকে যায়। এমন সময় বিজিবি আমাকে দর্জি প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি সেলাই মেশিন দিয়েছে। আজ থেকে বেঁচে থাকার নতুন সংগ্রাম শুরু হলো। সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে এবং সংসার সচল রাখতে এই সেলাই মেশিন আমার পাথেয় হয়ে থাকবে।
এ জন্য বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিবির রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের বলেন, আমরা অসহায় নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছি। আমাদের এই কাজ তখনই সফল হবে, যখন তারা সেলাই মেশিন ব্যবহার করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
সুফলভোগী নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যদি এই কাজকে পেশা হিসেবে নেন, তাহলে আমাদের উদ্যোগ সফল হবে। ভবিষ্যতে অসহায় মানুষের জন্য আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব। তাই সেলাই মেশিনগুলো ফেলে না রেখে এগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবিকার পথ তৈরি করবেন।
অনুষ্ঠানে বিজিবির কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও উপকারভোগী নারীরা উপস্থিত ছিলেন।