শিরোনাম

ময়মনসিংহ, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : একটি গাছ শুধু মাটিতে শেকড় ছড়ায় না, তার সঙ্গে শেকড় গড়ে ওঠে মানুষের ভবিষ্যৎ, জীববৈচিত্র্য এবং পৃথিবীর নিরাপদ অস্তিত্বের।
সেই উপলব্ধি থেকেই ‘সবুজে বাঁচি, সবুজে গড়ি-আগামীর পৃথিবী হোক সবার’ প্রত্যয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
আজ বৃহস্পতিবার বাকৃবি ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বিভাগীয় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণকে কেবল একটি দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে দেখলে চলবে না।
একটি গাছ লাগানোর পর সেটিকে বাঁচিয়ে তোলার দায়িত্বও নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বাস্তবতায় পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
গাছ লাগানো মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে একটু বেশি বাসযোগ্য করে তোলা। বৃক্ষরোপণের প্রকৃত সাফল্য কতটি চারা রোপণ করা হলো, শুধু তার ওপর নির্ভর করে না, বরং কতগুলো গাছ দীর্ঘদিন টিকে থাকল এবং পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখল, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এজন্য পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্েযর সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
নতুন করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপিত গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতি মানুষের সম্পত্তি নয়, মানুষ প্রকৃতিরই অংশ। তাই প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে শেষ পর্যন্ত নিজেদের জীবনকেই রক্ষা করা।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয় জরুরি। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ পরিবেশকে সবুজ করার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সবুজ পৃথিবী নামে একটি সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক সহিদ মাহমুদ।
এ সময় বাকৃবির সহযোগী অধ্যাপক ড. শারমিন আক্তার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. মো. জহিরুল আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ ময়মনসিংহ রিজিয়নের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন।